
মাত্র কয়েক দিন আগে নেটপাড়ায় জন্ম নেওয়া ককরোচ জনতা পার্টি যখন ইনস্টাগ্রামে খোদ মোদী-শাহের বিজেপি-কে ফলোয়ার সংখ্যার নিরিখে গোল দিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়ছে, ঠিক তখনই আরশোলার দাপট থামাতে সোশ্যাল মিডিয়ার অলিন্দে আত্মপ্রকাশ করল আরও এক মারাত্মক ব্যঙ্গাত্মক বা স্যাটিরিক্যাল ফ্রন্ট, ন্যাশনাল প্যারাসাইটিক ফ্রন্ট বা, এনপিএফ।
এই মুহূর্তে ভারতীয় নেটিজেনদের দেওয়ালে দেওয়ালে ছড়িয়ে পড়েছে এই নতুন দলের পোস্টার। ভারতের যুবসমাজ এই দুই কাল্পনিক বা প্যারোডি দলকে নিয়ে এমনভাবে চর্চায় মেতেছে, যা দেখে আপাতদৃষ্টিতে মনে হতেই পারে যে দেশে বুঝি নতুন কোনও লোকসভা নির্বাচন ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। ভারতের এই অদ্ভুত ডিজিটাল পলিটিক্যাল থিয়েটার বা, মিম-রাজনীতির উৎপত্তি কিন্তু এক গভীর ক্ষোভ এবং সামাজিক প্রতিবাদ থেকে। উল্লেখ্য, ১৫ মে দেশের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি শুনানির সময় করা বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এই ঝড়ের সূত্রপাত। যদিও পরবর্তীতে শীর্ষ আদালতের তরফে স্পষ্ট করা হয় যে, প্রধান বিচারপতির ওই মন্তব্য স্রেফ জালিয়াতি চক্রের চাঁইদের উদ্দেশ্যে ছিল, সাধারণ যুবকদের জন্য নয়।
কিন্তু ততক্ষণে প্রধান বিচারপতির সেই তির্যক অপমানকেই,অস্ত্র বানিয়ে ময়দানে নেমে পড়ে দেশের কোটি কোটি কর্মহীন ও হতাশ যুবসমাজ। ককরোচ জনতা পার্টি আর ন্যাশনাল প্যারাসাইটিক ফ্রন্ট তারই প্রমাণ। সহজ কথায়, এনপিএফ কোনও সরকার নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নয়, এটি সম্পূর্ণ মিম এবং প্যারোডির ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি ডিজিটাল যুব আন্দোলন। তবে এদের থিমটি অত্যন্ত চতুর। এরা নিজেদের সাধারণ বা ট্র্যাডিশনাল রাজনীতির বিরোধী তো বটেই, একই সঙ্গে এরা নিজেদের ঘোষণা করেছে ভাইরাল, ককরোচ জনতা পার্টি-র প্রধান ও অফিশিয়াল বিরোধী দল হিসেবে।







