বিমানে সৌর জ্বালানির বিকল্প শৈবাল

0
12

এভিয়েশন খাতে কার্বনশূন্য সাফল্য আনতে সমুদ্রের শৈবাল জ্বালানি দিতে পারে উল্লেখযোগ্য সমাধান। সমুদ্রের প্রায় ১৫ মিটার,৪৯ ফুট গভীরতায় এর স্থানীয় আবাসস্থল থেকে শৈবালরা সূর্যের আলো শোষণ করে এবং সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড শুষে নেয়।

দৈত্যাকার শৈবালগুলো প্রতিদিন প্রায় ৬০ সেমি মানে প্রায় ২ ফুট হারে বৃদ্ধি পায়, যা এটিকে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল সামুদ্রিক শৈবালগুলোর মধ্যে একটি করে তোলে এবং যদি ৮০ মিটার মানে প্রায় ২৬২ ফুট আরও পুষ্টি সমৃদ্ধ গভীরতায় স্থানান্তরিত করা হয় তবে এটি আরও দ্রুত বৃদ্ধি পায়।অনুমান করা হচ্ছে, শৈবাল মানে কেল্প এবং সামুদ্রিক ঘাস মানে ম্যাক্রোঅ্যালগাস, প্রতিবছর বায়ুমণ্ডল থেকে ৬১ থেকে ২৬৮ মিলিয়ন টন কার্বন অপসারণ করতে পারে।এ কারণে সামুদ্রিক শৈবাল সংগ্রহ করে যদি এগুলোকে বাতাস থেকে টানা কার্বন দিয়ে জৈব জ্বালানিতে পরিণত করা যায়, তবে এ অতিরিক্ত নির্গমনের আশঙ্কা থাকবে না।বিজ্ঞানীরা এখনও বিষয়টি নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছেন।ক্যালিফোর্নিয়া-ভিত্তিক কোম্পানি মেরিন বায়োএনার্জির সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান প্রকৌশলী ব্রায়ান উইলকক্স বলেছেন, শৈবাল থেকে জৈব জ্বালানি তৈরির বড় সুবিধা হল,এটি পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পের বিদ্যমান সমস্ত পরিশোধন পরিকাঠামো ব্যবহার করেই সম্ভব। সান্তা ক্যাটালিনা দ্বীপের রিগলি ইনস্টিটিউট ফর এনভায়রনমেন্টাল স্টাডিজের গবেষকরা মেরিন বায়োএনার্জির সঙ্গে কাজ করে এমন একটি প্রক্রিয়া উদ্ভাবন করছেন, যা দিয়ে জৈব জ্বালানি তৈরির জন্য বড় আকারের শৈবাল চাষের প্রয়োজন হবে।শৈবালকে জৈব জ্বালানিতে রূপান্তর করার জন্য বেশ কয়েকটি পদ্ধতি ইতিমধ্যেই অন্বেষণ করা হয়েছে,যার মধ্যে হাইড্রোথার্মাল লিকুইফেকশন নামক একটি প্রক্রিয়া রয়েছে।এটি গরম চাপযুক্ত জলে কঠিন কার্বোহাইড্রেট-সমৃদ্ধ বায়োমসকে তরল উপাদানে ভেঙে বায়োক্রুড তেল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করবে।গবেষক কিম বিশ্বাস করেন বড় পরিসরে সামুদ্রিক খামারগুলোতে শৈবাল জন্মানো গেলে কীটনাশক ছাড়াই প্রচুর পরিমাণে তা উৎপাদন সম্ভব।