
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নিরসন এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে আমেরিকা যে চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে, তা এখনো গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করেনি ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে জানা গেছে, তেহরানে এখনো প্রস্তাবটির চূড়ান্ত খসড়া নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা চলছে।
ইরানের আলোচক দলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, অতীতের অভিজ্ঞতার কারণে আমেরিকার সঙ্গে যেকোনো সমঝোতা নিয়ে তেহরান খুব সতর্ক। তাদের অভিযোগ, অতীতে ওয়াশিংটন একাধিকবার চুক্তির ক্ষেত্রে বিশ্বাসভঙ্গ করেছে। সে কারণে এবার ইরান কেবল বাস্তব ও নিশ্চিত লাভ না পেলে কোনো সিদ্ধান্তে যেতে চায় না। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের শাসনব্যবস্থা গুরুতরভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং শেষ পর্যন্ত তেহরানের পতন অনিবার্য। তিনি দাবি করেন, তেহরানের ক্ষমতার ভিত্তি ইতিমধ্যে ভেঙে গেছে এবং আগের অবস্থায় ফেরার সম্ভাবনা নেই। অন্যদিকে কয়েক মাস ধরে সংঘাত চলার পর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার হয়েছে, যেন পরিস্থিতি আর উত্তপ্ত না হয়। বিশেষ করে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলেছে এই উত্তেজনা।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বলা হয়েছে, ইরান বর্তমানে আমেরিকার সঙ্গে একটি সীমিত ও অন্তর্বর্তী চুক্তির দিকে ঝুঁকছে। এর মাধ্যমে একদিকে অর্থনৈতিক চাপ কিছুটা কমানো যাবে, অন্যদিকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বড় ধরনের ছাড় দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। এদিকে ইরানের এই কৌশল নতুন নয়। ইরান দীর্ঘদিন ধরেই বাইরের চাপ সামলে নিজেদের মূল অবস্থান ধরে রেখে কূটনৈতিক যোগাযোগ চালু রাখার নীতি অনুসরণ করে আসছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক সংকট, আর্থিক সুবিধা পাওয়া এবং অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়টিও বড় হয়ে উঠেছে।






