ডেঙ্গি আর করোনা গুলিয়ে গেলে বিপদ 

0
3

Last Updated on by

শুক্রবার থেকে সরকারিভাবে বর্ষা এসে গেছে কলকাতায়। প্রচন্ড গরমের পর বৃষ্টি স্বস্তি এনে দিলেও বিপদ বাড়ছে। 

প্রতিবছর বর্ষা মানেই ডেঙ্গি আর ম্যালেরিয়ার কলকাতায় আগমন। পুরসভা আছে, হেলথ ক্লিনিক আছে, প্রচুর ডাক্তার এবং সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে হাসপাতালও রয়েছে। তা সত্বেও প্রতি বছর কলকাতায় ডেঙ্গির বলি হন বেশ কিছু মানুষ। আর এই মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে আরও বেশি।সরকারের দাবি আর বাস্তব যে এক নয়, তা ভুক্তভোগী রোগী আর তাঁদের আত্মীয়জনেরা জানেন।

এবার বর্ষা শুরুর আগে কলকাতায় ডেঙ্গির প্রকোপ শুরু হয়ে গিয়েছে। করোনার প্রবল সংক্রামণের মধ্যে ডেঙ্গির প্রকোপ আরও বড় বিপদ ডেকে আন্তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ বছর এখনও পর্যন্ত রাজ্যে ৫৭৩ জন ডেঙ্গি-আক্রান্ত হয়েছেন বলে খবর।গত বছর যা ছিল ৬৮২। কলকাতা পুরসভার তথ্য অনুযায়ী, মহানগরে আক্রান্তের সংখ্যা নব্বইয়ের বেশি। বিপদ অন্য জায়গায়।এবার, একই সঙ্গে কোভিড ১৯ এবং ডেঙ্গির শিকার হয়েছেন অন্তত দু’জন।এক জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। আর এক জনও হাসপাতালে, স্থিতিশীল। হাওড়ায় করোনা-আক্রান্ত হয়ে মৃত এক রোগীর ডেঙ্গি রিপোর্ট পজ়িটিভ ছিল বলে খবর।

বিশ্বে যে সব দেশে ডেঙ্গির প্রাদুর্ভাব রয়েছে, সেখানেও মানুষের দেহে, কোভিড ১৯ এবং ডেঙ্গি, দুই ভাইরাসের সহাবস্থানের পরিণাম এখন আলোচ্য বিষয়। ব্রাজিল এবং সিঙ্গাপুরে একই সঙ্গে ডেঙ্গি এবং করোনা হয়েছে, এমন বেশ কিছু ঘটনা জানা গিয়েছে।করোনা রোগীর মৃত্যুর ক্ষেত্রে ডেঙ্গি কো-মর্বিডের ভূমিকা পালন করেছে কি না, তা দেখা হচ্ছে। করোনা আক্রান্ত ব্রাজিলে এ বার ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা বেশি।দুয়ের মধ্যে কার্যকারণ সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন গবেষকেরা।

কোভিড ১৯ এবং ডেঙ্গি, দু’টিই আরএনএ ভাইরাস গোত্রের হলেও চরিত্র আলাদা। ডেঙ্গি হল আর্বো ভাইরাস। আর করোনা হল সার্স শ্রেণিভুক্ত। শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে যে কোনও সংক্রমণই মানুষের দেহের পক্ষে বিপজ্জনক হতে পারে। ডেঙ্গির ভাইরাস রক্তনালীর পর্দাকে নষ্ট করে। এর ফলে রক্তের জলীয় পদার্থ রক্তনালী থেকে বেরিয়ে শরীরের অন্যত্র চলে গেলে রক্তচাপ কমে ঘটে বিপত্তি। আর করোনাভাইরাস মূলত শ্বাসনালীতে আঘাত করে। তবে শরীরের অন্য জায়গাতেও আক্রমণের ক্ষমতা কোভিডের রয়েছে।করোনাভাইরাস শ্বাসনালীর পথে ফুসফুসের কোষে প্রবেশ করে বংশবিস্তার ঘটাতে থাকলে প্রদাহ শুরু হয়।তাতে ফুসফুসের রক্তনালীতে রক্ত জমাট বাঁধলে অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ডিসট্রেস সিন্ড্রোম হয়। ডেঙ্গি দেহের সব কোষেই আক্রমণ করতে পারে। সেই আক্রমণের জেরে রক্তনালীর ছিদ্র বেড়ে ভিতরের জলীয় পদার্থ বাইরে বেরিয়ে এলে অন্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। আবার ভাইরাস অস্থি মজ্জায় আঘাত হানলে প্লেটলেটের সংখ্যা কমে হেমারেজিক শকের শিকার হতে পারেন আক্রান্ত।

এখন ঘটনা হলো, ডেঙ্গি এবং ম্যালেরিয়ার সহাবস্থানে কী পরিণাম হয় সেই অভিজ্ঞতা কলকাতা বা রাজ্যের চিকিৎসকদের রয়েছে।কিন্তু ডেঙ্গি-কোভিড ১৯-র প্রভাব সম্পর্কে অভিজ্ঞতা কম। এই পরিস্থিতিতে ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে নজরদারি বাড়ানো উচিত এমনটা বেশ কিছুদিন ধরে বলে আসছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। কারণ, চিকিৎসা পদ্ধতি থেকে সামাজিকভাবে অসুবিধায় পড়বেন বলে, করোনা ভীতিতে অনেকে হাসপাতালে যেতে ভয় পাচ্ছেন। ফলে জ্বর হলে মানুষ ডেঙ্গি পরীক্ষার জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাচ্ছেন না। কিন্তু, কোভিড-১৯ থাকলে, ডেঙ্গির টেস্ট ফলস পজ়িটিভ আসছে বিদেশে কিছু ক্ষেত্রে এমনটা দেখা গিয়েছে। সিঙ্গাপুরে এক গবেষণাপত্রে জানানো হয়েছে, করোনা ভেবে চিকিৎসা শুরু করে পরে ডেঙ্গি ধরা পড়েছে বা উল্টোটা ঘটেছে, এমন নজিরও রয়েছে।

সেই জায়গা থেকে আতঙ্ক বাড়ছে কলকাতার। করোনা, জুন-জুলাই মাসে কলকাতায় আরও ব্যাপক আকার নেবে এমন অভিযোগ -আশংকা বাড়ছে। সুপ্রিম কোর্ট, শুক্রবারই পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের ৪ রাজ্যের করোনা চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে রীতিমতো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তার মধ্যে যদি ডেঙ্গি আর করোনা গুলিয়ে যায় ,তাহলে বিপদ আরও ভয়ঙ্কর চেহারা নিতে পারে। ফলে, যা করতে হবে, তা এখনই করতে হবে, তা না হলে, আরও বড় বিপদ অপেক্ষা করছে।