
মুম্বইয়ে এক বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন শিল্পপতি রতন টাটা। বয়সজনিত সমস্যা নিয়ে মুম্বইয়ে একটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। বুধবার রাতে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। সপ্তাহের শুরুতে খবর মিলেছিল যে, রতন টাটাকে মুম্বইয়ে এক বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
আরও দাবি করা হয়েছিল, আচমকা তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে তাঁকে আইসিইউতে ভর্তি করানো হয়েছে। কিন্তু সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে শিল্পপতি নিজেই জানিয়েছিলেন, বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যার কারণে নিয়মমাফিক চেক-আপের জন্যই হাসপাতালে গিয়েছিলেন তিনি। এর পর বুধবার রাতে তাঁর মৃত্যুর খবর মিলেছে। ১৯৩৭ সালে তদানীন্তন বম্বেতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন রতন টাটা। পার্সি পরিবারের সন্তান তিনি। বছর দশেক বয়সেই তাঁর বাবা-মায়ের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটেছিল। সেই সময় থেকেই ঠাকুরমা নভাজিবাই টাটা তাঁর দেখাশোনার ভার আইনানুগ ভাবে নিয়েছিলেন। তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয়েছিল মুম্বইয়ে ক্যাম্পিয়ন স্কুলে। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সেখানেই পড়াশোনা করেন। এরপর বেশ কয়েকটি স্কুলেও পাঠ নিয়েছেন তিনি। ১৯৫৯-এ কর্নেল ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি স্থাপত্যবিদ্যায় স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। সত্তরের দশকে রতন তাঁর পেশাগত জীবনে প্রবেশ করেন। তাঁকে প্রথমে টাটা গোষ্ঠীর ব্যবস্থাপক স্তরের একটি পদে নিয়োগ করা হয়। তাঁর পূর্বসূরি জাহাঙ্গির রতনজি দাদাভাই টাটা কমবেশি ৫০ বছর শতাব্দীপ্রাচীন ওই গোষ্ঠীর দায়িত্ব সামলিয়েছিলেন। জেআরডি-র উত্তরসাধক হিসাবে রতনের কাছেও প্রভূত প্রত্যাশা ছিল গোষ্ঠীর। ১৯৯১ সালে রতন টাটার উপর দাযিত্ব আসে। পুরনো সংস্থাগুলির সংস্কার ছাড়াও বেশ কিছু সংস্থা তিনি গোষ্ঠীর তরফে অধিগ্রহণ করেন। চেয়ারম্যান হিসাবে তাঁর কার্যকালের প্রথম দশকেই ৩২টি নতুন সংস্থা চালু করেছিলেন। বিভিন্ন জনহিতকর কাজে নিজেকে যুক্ত রেখেছিলেন তিনি।








