মানসিক সমস্যা, লক্ষণে বুঝুন 

0
115
ছবি  সৌজন্যে : রিপ্রেসেন্টেশনাল 

সাধারণতঃ অভিযোগ আসে মানুষের মধ্যে একটি বিষয় নিয়ে এখনো সচেতনতার অভাব রয়েছে প্রচুর পরিমাণে।সেটি হচ্ছে মানসিক স্বাস্থ্য। এর অন্যতম প্রধান কারণ অনেক সময় রোগী নিজেই বুঝতে পারেন না যে তিনি মানসিক রোগে আক্রান্ত।

উদ্বেগ বা অ্যাংজাইটিও এমন একটি সমস্যা।এই উদ্বেগেরও কিছু প্রচ্ছন্ন লক্ষণ থাকে, যা সহজে চোখে পড়ে না। যেমন উদ্বেগের কারণে অনেক সময় আমরা মনোযোগ ধরে রাখতে পারি না। কোনো কাজ বা আলোচনায় মন বসাতে সমস্যা সৃষ্টি হয়। সহজে অন্যমনস্ক হয়ে যাওয়া বা কিছু মনে রাখতে না পারার মতো লক্ষণ দেখা যায়।একে অনেক সময় অমনোযোগিতা বা অন্য কোনো কারণে হচ্ছে বলে মনে করা হয়, কিন্তু এটি উদ্বেগের একটি প্রচ্ছন্ন লক্ষণও হতে পারে।আবার আমাদের মধ্যে অনেকেই সামান্য কারণেও অধৈর্য হয়ে পড়েন,যেকোনো বিষয়ে সহজে রেগে যান বা সবসময় মেজাজ খিটখিটে থাকে।এগুলোও উদ্বেগের একটি চাপা লক্ষণ হতে পারে। রোগী হয়তো বুঝতেও পারে না যে তার এই আচরণের মূলে উদ্বেগ কাজ করছে। অন্যদিকে,ঘুমের সমস্যা উদ্বেগের একটি অতিসাধারণ লক্ষণ। তবে,অনেক সময় আপাতদৃষ্টিতে ঘুম এলেও ভেতরে কিছু গভীর সমস্যা থেকে যায়। রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া, খুব ভোরে ঘুম ভেঙে যাওয়া, তারপর আর ঘুম না আসা, অথবা ঘুম থেকে ওঠার পরেও ক্লান্তি অনুভব করা ইত্যাদি মানসিক উদ্বেগের থেকেও হতে পারে। অনেক সময় রোগী মনে করে অন্য কোনো কারণে তার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটছে, কিন্তু আসলে উদ্বেগের কারণে এমনটা হয়। পাশাপাশি,মানসিক উদ্বেগ শরীরের ওপর বিভিন্নভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।এর ফলে মাথা ব্যথা, পেটে অস্বস্তি, পেশিতে টান বা ব্যথা, ক্লান্তি ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অনেক সময় এই শারীরিক সমস্যার কোনো স্পষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। এই ধরনের অস্থিরতাও প্রচ্ছন্ন উদ্বেগের বহিঃপ্রকাশ হতে পারে।উল্টোদিকে,উদ্বেগে থাকা ব্যক্তিরা অনেক সময় নিজের অজান্তেই কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতি বা স্থান এড়িয়ে যেতে চেষ্টা করেন।

কারণ ওই স্থানে গেলে তাদের উদ্বেগ বেড়ে যায়। হয়তো তারা সরাসরি সেই উদ্বেগের কথা বলতে পারেন না বা বুঝতে পারেন না।