নতুন সুরক্ষা-ঢাল খুঁজছে এশিয়া

0
19
ছবি সৌজন্যে :  রিপ্রেসেন্টেশনাল 

আমেরিকার নিরাপত্তা বলয়ের ওপর আস্থা হারিয়ে এশীয় অঞ্চলের দেশগুলো এখন বিকল্প প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে। ফিলিপাইনের ব্রহ্মোস মিসাইল মোতায়েন থেকে শুরু করে দক্ষিণ কোরিয়ার ফাইটার জেটের দিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর দ্রুত ঝুঁকে পড়ার ঘটনাটি ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতির টালমাটাল অবস্থাকেই স্পষ্ট করে তুলছে।

এই প্রেক্ষাপটে সিঙ্গাপুরে শুরু হওয়া এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ প্রতিরক্ষা সম্মেলন ,শাংরি-লা ডায়ালগ এবার পরাশক্তিগুলোর শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ থেকে কৌশলগত আত্মরক্ষার এক বড় বাজারে পরিণত হয়েছে।মধ্যপ্রাচ্যে একের পর এক সংঘাত, শক্তিগুলোর মধ্যকার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং মার্কিন নেতৃত্বাধীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিয়ে তৈরি হওয়া গভীর সংশয়ের কারণে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলো তাদের প্রতিরক্ষা কৌশল নতুন করে সাজাতে বাধ্য হচ্ছে। ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ,আইআইএসএস আয়োজিত তিন দিনের এই সম্মেলনটি দীর্ঘকাল ধরে এ অঞ্চলের নিরাপত্তা আলোচনার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসলেও এবারের আয়োজনটি এক অত্যন্ত নাজুক ও সন্ধিক্ষণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।সম্মেলনের মূল মঞ্চে আগত বিভিন্ন দেশের প্রতিরক্ষা প্রধানদের আনুষ্ঠানিক ভাষণগুলো মনোযোগ কাড়লেও, এবারের ফোরামের প্রকৃত তৎপরতা ও দরকষাকষি চলছে হোটেলের করিডোর এবং রুদ্ধদ্বার বৈঠকগুলোতে। বিশ্বজুড়ে নানা প্রান্তে অতিরিক্ত জড়িয়ে পড়া ওয়াশিংটনের কারণে আঞ্চলিক শক্তিগুলো তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে এবং বিকল্প উৎস খুঁজতে এই বন্ধ দরজার পেছনের আলোচনাগুলোকেই বেছে নিচ্ছেন।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এবারের সংলাপের মূল চিন্তার বিষয় হলো ওয়াশিংটন কি আদৌ একসঙ্গে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য এবং এশিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে কি না। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে ঘটে যাওয়া ইরানের সংঘাতের অনিষ্পন্ন ফলাফল এই সন্দেহকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, যার ফলে আমেরিকার দীর্ঘদিনের মিত্র ও নিরপেক্ষ রাষ্ট্র উভয় পক্ষই মার্কিন নিরাপত্তা গ্যারান্টির নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে।