
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এত দিন বলছিলেন, বিএনপি চাইছে না বলেই আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে পারছে না সরকার। এবার বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইউনূসের উপদেষ্টা পরিষদের প্রভাবশালী সদস্য তথা ছাত্রনেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ঘোষণা করেছেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে চলেছে সরকার।
বিএনপি এত দিনে রাজি হওয়ায় তাঁরা ধরে নিচ্ছেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা হয়েছে।এ বার সরকার আইনি পদক্ষেপ করতে চলেছে।উপদেষ্টা আসিফের ঘোষণার পরে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম বলেছেন,স্বাধীনতার যুদ্ধের ঐতিহ্য ধারণ করা একটি গণতান্ত্রিক দল হিসাবে সব সময়ে মানুষের পাশে থেকেছেন। বারে বারে আন্দোলনে নেমে দেশকে গণতন্ত্রের পথে ফিরিয়ে এনেছেন। সেই আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা চক্রান্ত নতুন নয়। ইউনূস সরকার এই পথে হাঁটলে প্রমাণ হবে তারা প্রকৃতই পাকিস্তান ও আইএসআই-এর চর। নাসিম বলেছেন, দেশের ১৮ কোটি মানুষ এই অপচেষ্টা মেনে নেবেন না, তাঁরাই এর উপযুক্ত জবাব দেবেন।এদিকে ক দিন আগে ঢাকার ৩২ নম্বর ধানমন্ডি রোডে শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক বাড়িটি নিশ্চিহ্ণ করে দেওয়ার কাজ শেষ হয়েছে।নারায়ণগঞ্জে আর একটি ঐতিহাসিক বাড়ি ১৯৫২’র ভাষা আন্দোলনের সূতিকাগার,ঐতিহ্যবাহী বায়তুল আমান ভবনও বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।বিভিন্ন সময়ে শেখ মুজিব এই বাড়িতে আত্মগোপন করেছিলেন। কিশোরগঞ্জে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের বাসভবন ভাঙচুর করে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।গোটা দেশের প্রায় সর্বত্র কোথাও তৌহিদি জনতা, বা কোথাও ছাত্র-জনতা-র নামে আওয়ামী লীগ নেতা-মন্ত্রীদের বাড়িঘর লুট করে ধ্বংস করা হয়েছে। রাজশাহিতে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে প্রাক্তন মেয়র ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য খায়রুজ্জামান লিটনের বাসভবন।
অন্যদিকে,কোথাও ভাঙচুর ও লুঠতরাজে প্রশাসন বিন্দুমাত্র বাধা না দিলেও ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার বিবৃতি দিয়ে এই কাজের জন্য ভারতকে দায়ী করেছিল। সরকারি ভাবে বলা হয়েছে, ভারত সে দেশ থেকে শেখ হাসিনাকে রাজনীতি করতে দিচ্ছে। বলা হয়েছে, হাসিনার উস্কানিমূলক বক্তব্যে রুষ্ট হয়েই দেশের মানুষ ভাঙচুর ও ধ্বংসের পথ নিয়েছে।
