
অফিসে গিয়ে চেয়ারে বসলে লাঞ্চ ব্রেকে আগে আর ওঠার সুযোগ হয় না। আট-ন’ ঘণ্টার অফিসে লাঞ্চ, টিফিন, টয়লেটে যাওয়াসহ হাতে গোনা কয়েকবার ওঠার সুযোগ পান।এভাবে একনাগাড়ে বসে থাকায় ক্রমে বাড়ছে পিঠ-কাঁধের ব্যথা।অনেকের এখন ক্লান্ত শরীরে রাতে শুয়েও স্বস্তি পাওয়া যায় না, যন্ত্রণায় ছটফট করতে হয়।
এই অবস্থায় বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ব্যথা-যন্ত্রণা বড় কোনো বিপদও ডেকে আনতে পারে। অনেকেরই এই ব্যথা ক্রনিক আকার নেয়।যার জন্য ওষুধ খেতেও বাধ্য হন। কিন্তু তাতেও অনেক সময়ে লাভ হয় না।সে ক্ষেত্রে নিয়মিত কয়েকটি নিয়ম মেনে চললেই সহজে যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। তাই প্রথমে বলা ভালো,যতই ব্যস্ততা থাকুক, শরীরচর্চায় অবহেলা করবেন না। কারণ বিশেষজ্ঞদের মতে,পিঠ-কোমর-কাঁধের যন্ত্রণায় কয়েকটি যোগাসন, স্ট্রেচ করলে সবচেয়ে বেশি আরাম পাওয়া যায়। এ ছাড়া নিয়মিত শরীরচর্চা করলে উপকার পাবেন।আসলে,গুরুত্বপূর্ণ কাজ, সময়ের অভাব তো থাকবেই।কিন্তু তারই মধ্যে বিরতি নেওয়ার চেষ্টা করুন। অন্তত এক ঘণ্টা অন্তর ৫ মিনিট হাঁটাচলা করতে হবে।শুধু ব্যথা নয়, এতে চোখ এবং মাথারও বিশ্রাম হবে। আর যদি একান্তই কাজ ছেড়ে হাঁটতে না পারেন,তাহলে বসে বসেই স্ট্রেচিং করুন। এতেও খানিকটা স্বস্তি পাবেন। একটানা অফিসে এক জায়গায় বসে কাজ করলে পিঠ, কোমরের যন্ত্রণা হওয়া স্বাভাবিক।সে ক্ষেত্রে বসার ভঙ্গি ঠিক রাখতে হবে।কাজ ছাড়াও অন্য সময়ে কিংবা ঘুমানোর সময়েও সঠিক বসা ও শোওয়ার অভ্যাস করতে হবে। অনেক সময় শোয়ার ভুলেও কোমরে চাপ পড়ে। টেবিল-চেয়ারে কাজ করার সময়ও মেরুদণ্ড সোজা রাখা জরুরি।গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে ব্যথার সঙ্গে মানসিক চাপ বা অবসাদের একটা যোগ রয়েছে। তাই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে মন ভালো রাখা জরুরি,মানসিক স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখুন।
অন্যদিকে, ঘুমের সঙ্গেও পিঠ-কোমর যন্ত্রণার যোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে,কম ঘুম হলে কোমরের ব্যথা বেড়ে যেতে পারে। সারা দিন নানা কাজের পর শরীরের বিভিন্ন পেশি, স্নায়ু ঘুমানোর সময় শিথিল হয়ে পড়ে। তাই ব্যথামুক্ত শরীরের জন্য রোজ ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানো জরুরি।








