
বর্ষাকালে বাজারে বিভিন্ন শাক-সবজি পাওয়া যায়। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, টাটকা কলমি, পুঁই, লাল শাক কিংবা পালং শাক। কিন্তু বয়স্করা বর্ষাকালে এসব শাক থেকে দূরে থাকতে বলেন। এখন প্রশ্ন হলো, কেনই বা শাক থেকে দূরে থাকতে বলেন, এটা কি কেবল প্রাচীন কোনো কুসংস্কার, নাকি এর পেছনে কোনো কারণ রয়েছে?
আসলে বর্ষাকালে প্রকৃতির পরিবেশ অনেকটাই আদ্র, স্যাঁতসেঁতে এবং মাটিতে প্রায় সবসময় জল জমে থাকে।এই পরিবেশে ব্যাকটেরিয়া, ফাঙ্গাস ও পরজীবী জীবাণু বৃদ্ধি করে। ফলে যেসব শাক মাটির খুব কাছাকাছি বা নিচু জমিতে জন্মায়, সেসব শাকে নানা ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। যেমন,বর্ষার জলেতে থাকা ই-কোলাই, সালমোনেলা বা অন্যান্য জীবাণু সহজেই শাকের পাতায় বা ডাঁটায় লেগে যেতে পারে। এগুলো ভালোভাবে না ধুলে বা সঠিকভাবে রান্না না করলে পেটের সমস্যা হতে পারে। এদিকে বর্ষায় আর্দ্রতা বেশি থাকায় শাকে ছত্রাক বা ফাঙ্গাস জন্ম নেয়। এগুলো অনেক সময় চোখে দেখা যায় না। এ ছাড়া অনেক সময় কৃষক অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করেন। এই কীটনাশক ঠিকমতো না ধুলে শরীরে বিষক্রিয়া ঘটাতে পারে।শাকপাতায় গলগণ্ড পোকা, পোকামাকড়ের ডিম বা লার্ভা লেগে থাকে। এগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার না করলে দেহে ঢুকে যেতে পারে।এর বাইরে বাজারে বিক্রির সময় শাক-সবজি অনেক সময় নোংরা জলেতে ভিজিয়ে রাখা হয়, যাতে তা দেখতে টাটকা লাগে। এতে শাকের ওপর ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে পড়ে। তবে,বর্ষাকালে শাক-সবজি থেকে দূরে থাকতে হবে না।বরং সতর্কভাবে শাক-সবজি খেলে বর্ষাতেও উপকার পাওয়া যায়। বর্ষাকালে শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। ফলে শাকের ভিটামিন, আয়রন, ফাইবার খুবই দরকার হয়। তবে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি, যার মধ্যে রয়েছে ,টাটকা ও স্বাস্থ্যকর শাক কিনুন,লবণজল বা ভিনেগার দিয়ে ধুয়ে নিন, এতে ব্যাকটেরিয়া ও কীটনাশক দূর হবে,ভালোভাবে সিদ্ধ করে রান্না করুন, একই শাক একটানা কয়েক দিন না খাবেন না, অর্গানিক বা নিরাপদ উৎস থেকে শাক কেনার চেষ্টা করুন।
বলাই হয়,বর্ষাকাল মানেই সংক্রমণের সিজন। তাই শাক-সবজি হোক বা অন্য খাবার—পরিষ্কার ও সচেতনতার সঙ্গে খেলে বর্ষাও হতে পারে সুস্থ থাকার সময়।








