অজান্তেই নষ্ট হচ্ছে ঘুম

0
28
ছবি সৌজন্যে :  রিপ্রেসেন্টেশনাল

সাধারণতঃ ঘুম ঠিকমতো না হলে তার পেছনে বড় কোনো কারণ নাও থাকতে পারে—বরং দায়ী হতে পারে আমাদেরই কিছু দৈনন্দিন ছোট ছোট বদঅভ্যাস। অজান্তেই গড়ে ওঠা এসব অভ্যাস ধীরে ধীরে ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দকে নষ্ট করে দেয়।সেজন্যেই ভালো ঘুম পেতে হলে আগে চিহ্নিত করতে হবে কোন অভ্যাসগুলো এই ক্ষতি করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভালো ঘুম মানুষের সামগ্রিক সুস্থতার একটি অপরিহার্য অংশ। এটি শুধু শরীরকে বিশ্রাম দেয় না বরং মস্তিষ্ককে পুনরুজ্জীবিত করে, মানসিক চাপ কমায় এবং দৈনন্দিন জীবনে কর্মক্ষমতা বাড়ায়। কিন্তু আধুনিক জীবনযাপনের ব্যস্ততা, অনিয়ম এবং প্রযুক্তিনির্ভরতা অনেকের ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দকে ব্যাহত করছে। ফলে দ্রুত ঘুম আসা এবং গভীর ঘুম নিশ্চিত করা আজ অনেকের কাছেই একটি বড় চ্যালেঞ্জ।এদিকে,ঘুমের মান উন্নত করতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন একটি নিয়মতান্ত্রিক জীবনধারা গড়ে তোলা। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং একই সময়ে জেগে ওঠার অভ্যাস শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়িকে ঠিক রাখে। ধীরে ধীরে শরীর নিজেই নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমের সংকেত দিতে শুরু করে। এই অভ্যাস যদি সপ্তাহের প্রতিটি দিনেই বজায় রাখা যায় তাহলে ঘুমের গুণগত মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়।এই জায়গা থেকেই,ঘুমের প্রস্তুতি আসলে বিছানায় যাওয়ার অনেক আগেই শুরু হওয়া উচিত। বিশেষ করে ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল ফোন, টেলিভিশন বা কম্পিউটারের ব্যবহার বন্ধ রাখা প্রয়োজন। কারণ এসব ডিভাইস থেকে নির্গত নীল আলো মস্তিষ্কে ঘুমের হরমোন নিঃসরণে বাধা সৃষ্টি করে। এর পরিবর্তে বই পড়া, নরম সুরের গান শোনা বা হালকা ধ্যানচর্চা মনকে প্রশান্ত করে এবং ঘুমের জন্য প্রস্তুত করে।মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা ঘুমের সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর একটি। অনেক সময় দেখা যায়, শরীর ক্লান্ত হলেও মাথায় নানা চিন্তা ঘুরপাক খেতে থাকে, ফলে ঘুম আসে না। এ অবস্থায় দিনের চিন্তা-ভাবনা লিখে রাখা, পরদিনের কাজের একটি তালিকা তৈরি করা বা বিশ্বাসযোগ্য কারও সঙ্গে কথা বলা মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে। এতে মস্তিষ্ক কিছুটা স্বস্তি পায় এবং অপ্রয়োজনীয় উদ্বেগ থেকে মুক্ত হয়ে ঘুমে যেতে পারে।ওদিকে,সুন্দর পরিবেশও ভালো ঘুমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি নীরব, গভীর অন্ধকার এবং ঠান্ডা আবহাওয়ার উপযোগী ঘর হলে সাধারণত দ্রুত ঘুমিয়ে পড়তে সাহায্য করে। অতিরিক্ত আলো বা শব্দ ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী পর্দা ব্যবহার করা বা ফোন সাইলেন্ট রাখতে হবে। একই সঙ্গে ঘরের তাপমাত্রা যেন আরামদায়ক থাকে এবং বাতাস চলাচলের সুযোগ থাকে, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি। অনেকের ক্ষেত্রে হালকা বৃষ্টির শব্দ মতো শব্দ শুনলেও ভালো ঘুম হতে পারে।অন্যদিকে,ঘুম না এলে জোর করে ঘুমানোর চেষ্টা করা উল্টো ফল দিতে পারে।

দীর্ঘ সময় বিছানায় শুয়ে থেকে অস্থির হওয়ার চেয়ে কিছু সময়ের জন্য উঠে গিয়ে কোনো কাজ করা,যেমন বই পড়া বা মৃদু সঙ্গীত শোনা,অধিক কার্যকর।এছাড়া,যখন ঘুমের ভাব আসে, তখন বিছানায় ফিরে যাওয়া উচিত। এতে মস্তিষ্কের সঙ্গে বিছানার একটি ইতিবাচক সম্পর্ক তৈরি হয় যা এটি দ্রুত ঘুমাতে সহায়তা করে।