আসামে প্রকাশ্যে গরুর মাংস নিষিদ্ধ

0
508
ছবি সৌজন্যে : সোশ্যাল মিডিয়া

উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে প্রকাশ্যে গরুর মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যার মধ্যে রেস্তোরাঁ ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের স্থানও অন্তর্ভুক্ত। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, এর আগে একটি নিয়ম ছিল, যেখানে মন্দিরের মতো কিছু ধর্মীয় স্থানের কাছে গরুর মাংস বিক্রি নিষিদ্ধ ছিল। এবার সেই নিয়ম আরো প্রসারিত করা হয়েছে।  অসমে এতদিন পর্যন্ত নিয়ম ছিল, রাজ্যে গোমাংস বিক্রি করা যাবে না। তাছাড়া মন্দির সংলগ্ন ৫ কিলোমিটার এলাকাতে গোমাংস ভোজন নিষিদ্ধ ছিল। এবার সেই আইনেই আরও কড়াকড়ি আনতে চলেছে অসমের বিজেপি সরকার।তবে আসামে দোকান থেকে মাংস কিনে বাড়ি বা ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানে খাওয়া যাবে।

এদিকে দেশের মোট জনসংখ্যার ৮০ শতাংশ হিন্দু ধর্মাবলম্বী। হিন্দুরা গরুকে পবিত্র মনে করে। এই কারণে দেশে গরুর মাংস খাওয়া একটি সংবেদনশীল বিষয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টি,বিজেপি শাসিত কয়েকটি রাজ্য গত কয়েক বছরে গরু জবাই ও গরুর মাংস খাওয়ার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে।অন্যদিকে,ভারতের ২৮টি রাজ্যের দুই-তৃতীয়াংশে আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে গরু জবাই ও গরুর মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ, যার অনেকগুলোতেই বিজেপি শাসন করে। তবে এসব রাজ্যের কিছুতে মহিষের মাংস খাওয়া বৈধ।

এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন অংশে গরু নিয়ে গত ক বছরে দুষ্কৃতী কার্যকলাপের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি মাংস ও গরু ব্যবসায়ীদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে।প্রতিবেশী রাষ্ট্রে বেআইনিভাবে গরু পাচারে নাম জড়িয়েছে পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবং পুলিশের একটা অংশের। যা নিয়ে বারবার সরব হয়েছে ,বিরোধী দল,বি জে পি। যা নিয়ে সি বি আই -ই ডি পর্জন হয়েগেছে।

এর আগে,আসামে ২০২১ সালে এমন একটি আইন কার্যকর হয়, যেখানে হিন্দু, জৈন ও শিখ সম্প্রদায়ের বাসস্থানের কাছাকাছি গরুর মাংস কেনাবেচা নিষিদ্ধ করা হয়। একই সঙ্গে মন্দিরের কাছেও গরুর মাংস বিক্রি নিষিদ্ধ ছিল। প্রকাশ্যে গরুর মাংস খাওয়ার এই নতুন নিষেধাজ্ঞা আগের আইনে যোগ করা হবে।

এখন ঘটনা হলো,এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময় এলো, যখন দেশের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস অভিযোগ করেছে, মুসলিম অধ্যুষিত সমাগুড়ি আসনে একটি উপনির্বাচনে জেতার জন্য মুখ্যমন্ত্রী ভোটারদের গরুর মাংস সরবরাহ করেছেন।বিজেপি অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কংগ্রেসের অভিযোগ,ভোটারদের গরুর মাংস দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তার দলের হিন্দু জাতীয়তাবাদী আদর্শের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। আর আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, কংগ্রেস চাইলে তিনি রাজ্যে পুরোপুরি গরুর মাংস নিষিদ্ধ করতে তৈরি।

স্বাভাবিকভাবেই,অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো এই নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করেছে।তারা বলছে,এটি মানুষের পছন্দের খাবার খাওয়ার অধিকারে হস্তক্ষেপ।সর্বভারতীয় ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের সদস্যরা বলেছেন,যদি বি জে পি গোয়া বা উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অন্য রাজ্যে গরুর মাংস নিষিদ্ধ করতে না পারে,তাহলে আসামে কেন? উল্লেখ্য, গোয়া ও অরুণাচল প্রদেশের মতো কিছু রাজ্যে গরুর মাংস বিক্রি ও খাওয়া বৈধ, যা বিজেপিশাসিত রাজ্যও বটে।

অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেছেন, তিন বছর আগে অসমে গোহত্যা বন্ধ করতে আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল। সেখানে সাফল্য মিলেছে। তার পরেই আইনে আরও কড়াকড়ি আনার কথা ভাবা হচ্ছে।

আর বাস্তব হলো দেশের গো সম্পদ রক্ষা করা বি জে পি -র প্রায় ঘোষিত এজেন্ডার মধ্যেই আছে। এই জায়গা থেকে আসামের এই সির্দ্ধান্ত এক অর্থে নজিরবিহীন এবং পথনির্দেশিকা হতে পারে। আশা করায় যেতে পারে ,রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তা ব্যবহার করা হবে না।