ডায়াবেটিকদের জন্য উপকারী অভ্যাস

0
99
ছবি  সৌজন্যে : রিপ্রেসেন্টেশনাল 

বর্তমান সময়ের সবচেয়ে সাধারণ, কিন্তু জটিল স্বাস্থ্য সমস্যাগুলোর মধ্যে ডায়াবেটিস ও হজমজনিত সমস্যা অন্যতম। অনিয়মিত জীবনযাপন, দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার অভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এই সমস্যাগুলোকে আরো বাড়িয়ে তুলছে। 

অনেকেই মনে করেন সুগার নিয়ন্ত্রণ বা হজম ভালো রাখতে কঠিন ডায়েট কিংবা ওষুধই একমাত্র ভরসা। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, প্রতিদিন একটি ছোট অভ্যাসই এই দুই সমস্যাকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে, আর সেটি হলো খাবারের পর হাঁটা।এটি এমন এক অভ্যাস, যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সহজেই যুক্ত করা সম্ভব। অথচ এর উপকারিতা অত্যন্ত গভীর। ডাক্তারদের মতে, খাবারের পর মাত্র ১০ মিনিট বা প্রায় ১ হাজার পদক্ষেপ হাঁটা হজম প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করে এবং রক্তে শর্করার হঠাৎ বৃদ্ধি রোধ করতে সাহায্য করে।বিশেষ করে ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য এই অভ্যাসটি অত্যন্ত কাজের।খাওয়ার পর হাঁটলে শরীরের পাচনতন্ত্র দ্রুত কাজ শুরু করে।খাবার দীর্ঘক্ষণ পাকস্থলীতে আটকে থাকে না।ফলে গ্যাস, পেটফাঁপা ও ভারী লাগার সমস্যা অনেকটাই কমে যায়। সাম্প্রতিক গবেষণায় বলা হয়েছে,খাবারের পর হাঁটা গ্যাসট্রিক খালি হওয়ার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে, যার ফলে অন্ত্রের ওপর চাপ কম পড়ে এবং মলত্যাগের সমস্যা স্বাভাবিক থাকে।ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে খাবারের পর রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়াই সবচেয়ে বড় সমস্যা।স্পোর্টস মেডিসিন জার্নালে প্রকাশিত ২০২২ সালের একটি গবেষণার তথ্যানুযায়ী,খাবারের পর মাত্র ২ থেকে ৫ মিনিট হাঁটা রক্তে শর্করার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে।হাঁটার সময় শরীর ইনসুলিনকে আরো কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারে, যার ফলে গ্লুকোজ দ্রুত কোষে প্রবেশ করে এবং রক্তে জমে থাকার সুযোগ পায় না।শুধু শারীরিক দিক থেকেই নয়, খাবারের পর হাঁটা মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। ধীরে হাঁটার ফলে মানসিক চাপ কমে, মন ভালো থাকে এবং দিনের বাকি সময় কাজের প্রতি মনোযোগ বাড়ে।অনেকেই খাওয়ার পর ঝিমুনি বা অলসতা অনুভব করেন, কিন্তু অল্পক্ষণ হাঁটলে এই সমস্যা দূর হয় এবং শরীরে হালকা বোধ হয়। অ্যাসিডিটি ও বুকজ্বালার সমস্যায় ভোগা মানুষদের জন্যও খাবারের পর হাঁটা খুবই উপকারী। হাঁটার ফলে পাকস্থলির অ্যাসিড ওপরের দিকে উঠে আসার সম্ভাবনা কমে যায়। নিয়মিত এই অভ্যাস বজায় রাখলে অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে। একইসঙ্গে এটি অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং দীর্ঘমেয়াদে ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোমের মতো সমস্যার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।এই অভ্যাস শুরু করতে খুব বেশি প্রস্তুতির প্রয়োজন নেই। খাবার শেষ করার ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে ধীরে হাঁটা শুরু করা যেতে পারে। খুব দ্রুত হাঁটার প্রয়োজন নেই, বরং স্বাভাবিক গতিতে হাঁটাই সবচেয়ে উপকারী। খোলা জায়গায় বা বাড়ির আশপাশে হাঁটলে আরো ভালো ফল পাওয়া যায়।ব্যস্ত রুটিনের মধ্যেও এই ছোট্ট সময় বের করা সম্ভব এবং দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল চোখে পড়ার মতো।

সব মিলিয়ে বলা যায়, খাবারের পর হাঁটা একটি অত্যন্ত সহজ, কিন্তু বেশ কাজের স্বাস্থ্যকর অভ্যাস।এটি ডায়াবেটিক রোগীদের রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে, হজমশক্তি উন্নত করে, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং মানসিক সুস্থতাও বাড়িয়ে তোলে। বড় পরিবর্তনের জন্য বড় সিদ্ধান্ত নয়, বরং ছোট অভ্যাসই সুস্বাস্থ্যের চাবিকাঠি হতে পারে।