
বিহারে পঁচিশের বেশি আসন পাবে না জেডিইউ। নীতীশ কুমার আর মুখ্যমন্ত্রী হবেন না।
সেই পূর্বাভাস একেবারেই মেলেনি।বিহারের ভোটের ফল বলছে, প্রশান্তর দল জন সুরাজ পার্টি কোনওরকম কোনও প্রভাবই ফেলতে পারেনি। নিজের জয় তো নয়ই, অন্য দলের যাত্রাভঙ্গ করার মতো জায়গাতেও পৌঁছতে পারেনি জন সুরাজ পার্টি। ভোটকুশলী হিসাবে সাফল্য পেলেও রাজনীতির ময়দানে সরাসরি নেমে প্রশান্ত কিশোর রীতিমতো জলহীন মাছের মতো খাবি খাচ্ছেন। রাজনীতিতে প্রশান্ত কিশোর পা রেখেছিলেন রীতিমতো ধুমধাম করে। প্রায় ৩ বছর বিহারের গ্রামে গ্রামে ঘোরা। রীতিমতো কর্পোরেট ভঙ্গিমায় দল ঘোষণা। কোটি কোটি টাকা খরচ করে সভা-সমিতি করা। প্রচারে আলাদা করে পেশাদারদের ব্যবহার। ভিনরাজ্যের পরিযায়ী বিহারীদের জন্যও আলাদা করে কর্পোরেট দল তৈরি করে প্রচার করা। এবং সর্বোপরি সোশাল মিডিয়ায় হইচই। বস্তুত, এনডিএ বনাম মহাজোটের চিরাচারিত লড়াইয়ে বিহারের রাজনীতিতে তৃতীয় বিকল্প হিসাবে নিজেকে তুলে ধরার চেষ্টা করেন পিকে। তাঁর জন সুরাজ পার্টি জাতপাতের রাজনীতিতে ক্লিষ্ট বিহারে নতুন ভোরের স্বপ্ন দেখায়। কিন্তু সেই সবটাই সোশাল মিডিয়া এবং সংবাদমাধ্যমে। শুধু সোশাল মিডিয়ায় নতুন ভোরের স্বপ্ন দেখানোটা যথেষ্ট নয়। তাছাড়া বিহারের মতো বড়-জটিল রাজ্যে কোনও রাজনৈতিক দল দাঁড় করানোর জন্য ৩ বছর সময় যথেষ্ট নয়।
ভুলে গেলে চলবে না প্রথমবার ক্ষমতায় আসার আগে লালুপ্রসাদ যাদব বহু বছর পরিশ্রম করেছিলেন। নীতীশ কুমার জীবনের প্রথম দুই নির্বাচনে নিজে হেরেও আশাহত হননি।
