
নদিয়ার কল্যাণীতে বাজি কারখানায় বিস্ফোরণে ৪ মহিলার মৃত্যু হয়েছে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় উড়ে গিয়েছে পুরো বাজি কারখানাটি। বিস্ফোরণের জেরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে ঝলসানো দেহ। ১ মহিলাকে গুরুতর অবস্থায় কল্যাণী জেএনএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
বিস্ফোরণে পলাতক কারখানার মালিক খোকন বিশ্বাসকে আটক করেছে পুলিশ। কল্যাণীর রথতলায় ওই বাজি কারখানায় কাজ করছিলেন ৭-৮ জন। এদের মধ্যে বাসন্তী চৌধুরি, অঞ্জলি বিশ্বাস, রুমা সোনার এবং দুর্গা সাহার মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর জখম উজ্জ্বলা ভূঁইয়াকে কল্যাণীর জেএনএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি দোকানের আড়ালে বেআইনি বাজি কারখানা চালাতেন খোকন। অন্তত ৭-৮ জন শ্রমিক ওই কারখানায় কাজ করতেন। প্রাথমিকভাবে মুর্শিদাবাদের রেজিনগরের দুই শ্রমিককে নিয়ে অবৈধভাবে কারখানার কাজ শুরু করেছিলেন খোকন। পরে স্থানীয় মহিলারা যোগ দেন। শুক্রবার দুপুরে কল্যাণীর রথতলায় ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিস্ফোরণের পর প্রথমে স্থানীয়রাই টিউবওয়েল থেকে জল তুলে আগুন নেভানো ও উদ্ধারকাজে নামে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন নদিয়ার এসপি, কল্যাণী থানার পুলিশ এবং দমকল। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান আতশবাজির তৈরির সময় শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগে। তার ফলেই বিস্ফোরণ হয়ে থাকতে পারে। তবে এই প্রথম গতবছর পয়লা নভেম্বর আলোর উৎসবের মধ্যে উলুবেড়িয়ায় মজুত বাজিতে বিস্ফোরণে ২ শিশু সহ ৩জনের মৃত্যু হয়েছিল। ২০২৩-র ২০ মার্চ মহেশতলায় বেআইনি বাজি কারখানায় বিস্ফোরণে প্রাণ যায় ৩ জনের। ওই বছরই ১৬ মে পূর্ব মেদিনীপুরের এগরায় বেআইনি বাজি কারখানায় বিস্ফোরণে ১১ জনের মৃত্যু হয়। তারপরেও প্রশাসনের কোনও হেলদোল দেখা যায়নি।
ওই বছরই ২২ মে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বজবজে বেআইনিভাবে মজুত বাজিতে বিস্ফোরণে মৃত্যু হয় ১ নাবালিকা সহ ৩ জনের। এরপর ২৮ অগাস্ট ফের বেআইনি বাজি কারখানায় বিস্ফোরণ কাপিয়ে দেয় উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুরকে। মৃত্যু হয় ৯ জনের।
