চিনা অ্যাপ ব্লক ডিজিটাল স্ট্রাইক

0
11

Last Updated on by

দেশবাসীর ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষার জন্যই চিনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এটা চিনের উপর ডিজিটাল স্ট্রাইক।

পশ্চিমবঙ্গের জন্য বিজেপির মিছিলে এমনই দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশংকর প্রসাদ।বলেছেন,লাদাখ সীমান্তে ভারত ও চিনা সৈনিকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার পর আচমকা ৫৯ চিনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করার দিল্লির সিদ্ধান্ত বেজিঙের উপর ডিজিটাল স্ট্রাইক।কেন্দ্রীয় আইন, যোগাযোগ, ইলেকট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী রবিশংকর প্রসাদ বলেছেন,ভারত শান্তি চায়। কিন্তু কেউ যদি খারাপ দৃষ্টিতে ভারতের দিকে তাকায়, তাহলে ভারতও যোগ্য জবাব দেবে। ভারত ও চিনের সীমান্ত উত্তেজনা নিয়ে গত সপ্তাহে এ কথাই বলতে শোনা গিয়েছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে।লাদাখ সীমান্তে ভারত ও চিনের মধ্যে তীব্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সোমবার ভারতে নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করা হয় ৫৯টি চিনা মোবাইল অ্যাপকে।কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের তরফে এ ব্যাপারে নির্দেশিকা জারি করা হয়। এই অ্যাপগুলির বিরুদ্ধে তথ্য়প্রযুক্তি আইনের ৬৯এ ধারা এবং ২০০৯ সালের তথ্যপ্রযুক্তি বিধির সংশ্লিষ্ট ধারা প্রয়োগ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।দেশের সার্বভৌমত্ব, প্রতিরক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানায় সরকার।

এর মধ্যেই প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের লেহ সফরের সূচি পরিবর্তিত হয়েছে। শুক্রবার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সফরে যাওয়ার কথা ছিল সেনাপ্রধান মনোজ মুকুন্দ নরবণের।সেই সফরসূচি পরিবর্তন করা হয়েছে বলে প্রতিরক্ষামন্ত্রকের এক শীর্ষ আধিকারিকের সূত্রে জানানো হয়েছে। তবে পরিবর্তিত সূচি অর্থাৎ কবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী লেহ সফরে যাবেন, তা জানানো হয়নি। কী কারণে সফরসূচিতে বদল, তাও জানা যায়নি। মূলত সীমান্ত পরিস্থিতি ও সেনা প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতেই যাওয়ার কথা ছিল প্রতিরক্ষামন্ত্রীর। সূত্রের মতে, কিছু ফরওয়ার্ড পোস্টেও যাওয়ার কথা ছিল প্রতিরক্ষামন্ত্রীর। ১৫ জুনের রাতে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া সেনাদের সঙ্গেও কথা বলার সম্ভাবনা ছিল।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপুঞ্জে কার্যত মুখ পুড়েছে বেজিং-ইসলামাবাদের। রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানের তৈরি খসড়া প্রস্তাব পেশ করেছিল চিন। কিন্তু নীরব প্রক্রিয়ায় আনা সেই প্রস্তাবে প্রথমে জার্মানি এবং পরে আমেরিকা হস্তক্ষেপ করায় প্রস্তাব পাশ নিয়েই জটিলতা তৈরি হয়েছে। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ব্যাখ্যা, পাকিস্তান-চিনের প্রস্তাবে হস্তক্ষেপ করে কার্যত ভারতের পাশেই দাঁড়িয়েছে ওয়াশিংটন ও বার্লিন।২৯ জুন পাক স্টক এক্সচেঞ্জে জঙ্গি হামলার পর পাক প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি দু’জনই ভারতের দিকে অভিযোগের তির ছুড়েছিলেন। এর পর রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে এই হামলা নিয়ে একটি নিন্দা-প্রস্তাবের খসড়া তৈরি করে পাকিস্তান। সেই প্রস্তাব রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে পেশ করে চিন। প্রস্তাবের সারমর্ম ছিল, পাক স্টক এক্সচেঞ্জে সন্ত্রাসবাদী হানার চক্রান্তকারী, হামলাকারী, অর্থ সাহায্যকারী এবং পৃষ্ঠপোষকদের আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বিচারের কাঠগড়ায় তোলার জন্য সব সদস্যের সক্রিয় সহযোগিতা চায় পাকিস্তান। সব সদস্য দেশ যেন পাক সরকার ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে এ বিষয়ে সাহায্য করে।

কূটনৈতিক শিবিরের ব্যাখ্যা, জার্মানি-আমেরিকার হস্তক্ষেপে দেরি হলেও হয়তো প্রস্তাব পাশ হয়ে যাবে। কিন্তু চিন-আমেরিকার এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এক দিকে জম্মু-কাশ্মীর সীমান্তে সংঘর্ষবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে মাঝেধ্যেই গোলাবর্ষণ করছে পাকিস্তান। অন্য দিকে গালওয়ান উপত্যকা ও প্যাংগং লেকে চিনা আগ্রাসন। ভারত-বিরোধী দুই প্রতিবেশীর প্রস্তাব পিছিয়ে দেওয়ার অর্থ কার্যত ভারতের অবস্থানকেই সমর্থন, মত কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।