
পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ্মীর ভান্ডার কিংবা মহারাষ্ট্রের লড়কি বহিন, বিনা শর্তে মহিলাদের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেওয়ার মতো এই ধরনের খয়রাতি প্রকল্প নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে আর্থিক সমীক্ষা।
এর আগে,গত বছর বিহারে বিধানসভা ভোটের আগে মহিলাদের বিনা শর্তে ১০ হাজার টাকা করে দিয়েছিল নীতীশ কুমারের নেতৃত্বাধীন জেডিইউ-বিজেপি জোট সরকার। বিজেপিশাসিত অসমেও ভোটের মুখে মহিলাদের হাতে বিহুর উপহার হিসাবে আট হাজার টাকা দিয়েছে হিমন্ত বিশ্বশর্মার সরকার। চলতি বছর পশ্চিমবঙ্গেও বিধানসভা নির্বাচন।তার আগে বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে বরাদ্দ বাড়াতে পারে বলে জল্পনা। তার আগে আর্থিক সমীক্ষায় এই বার্তা তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন অনেকে।রবিবার বাজেট পেশ করবেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। তার আগে আর্থিক সমীক্ষায় বলা হয়েছে,মহিলাদের হাতে টাকা তুলে দেওয়ার কিছু তাৎক্ষণিক সুবিধা রয়েছে। রোজগারের ক্ষেত্রে কিছুটা সাহায্য হয়। কিন্তু যে হারে বিনা শর্তে নগদ অনুদান প্রকল্পের মাত্রা বাড়ছে, একের পর এক রাজ্যে এই ধরনের প্রকল্প চালু হচ্ছে, তাতে রাজ্যগুলির কোষাগারের অবস্থা করুণ হচ্ছে। জনমোহিনী রাজনীতি করতে গিয়ে পরিকাঠামোর মতো যে সব ক্ষেত্রে খরচ করলে আর্থিক বৃদ্ধি বাড়তে পারে, সেখানে ব্যয় কমছে। হাতে টাকা পেয়ে যাওয়ায় মহিলাদের কাজের বাজারে অংশগ্রহণও কমে যাচ্ছে। কেউ নিজেদের রোজগারের জন্য তৈরি করা, দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে না। দীর্ঘ মেয়াদে তা বেশি লাভজনক হত।তবে সরাসরি মহিলা ভাতা প্রকল্পের বিরোধিতা না করা হয়নি আর্থিক সমীক্ষায়। মূলত প্রকল্পের নকশা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।এ ব্যাপারে মেক্সিকোয় প্রগেসা, ব্রাজিলে বলসা ফ্যামিলিয়া প্রকল্পের উদাহরণ টানা হয়েছে।
আর্থিক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, সেখানে স্কুলে হাজিরা, স্বাস্থ্য পরীক্ষার মতো নানা শর্ত রয়েছে। কত দিন পর্যন্ত টাকা মিলবে, তা-ও বলা হয়েছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক বোঝা থাকছে না। অথচ মানব সম্পদ উন্নয়ন হচ্ছে।



