
বহু বছরের অপেক্ষা, বহু স্বপ্ন আর বারবার ব্যর্থতার হতাশা সবকিছুর অবসান হলো এক অবিস্মরণীয় রাতে। ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে কাতারকে ৬–০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে তারা।
এই জয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পূর্ণ তিন পয়েন্ট পেল কানাডা।এটি শুধু কানাডার জন্যই নয়, তাদের ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয় হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। পাশাপাশি, কনকাকাফ অঞ্চলের কোনো দলের বিশ্বকাপে এটিই সর্বোচ্চ ব্যবধানের জয়। এই জয়ের ফলে গ্রুপ বি-তে শীর্ষস্থানেও উঠে গেছে কানাডা।ম্যাচের নায়ক ছিলেন ফরোয়ার্ড জোনাথন ডেভিড, যিনি দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করে কাতারের রক্ষণভাগকে কার্যত ছিন্নভিন্ন করে দেন।প্রথমার্ধেই একাধিক গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় স্বাগতিকরা।দ্বিতীয়ার্ধেও একই ছন্দ ধরে রাখে কানাডা। ডেভিড নিজের তৃতীয় গোল পূর্ণ করে হ্যাটট্রিক সম্পন্ন করেন। পাশাপাশি দলের অন্য আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রাও গোল করে বড় ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন। ৬–০ গোলের এই জয়ে গোল ব্যবধানেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হলো কানাডার।তবে বড় জয়ের আনন্দের মাঝেই দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মিডফিল্ডার ইসমাইল কোনের চোট। ম্যাচের ৫৩ মিনিটে কাতারের মিডফিল্ডার আসিম মাদিবুর কঠোর ট্যাকলের শিকার হন ২৪ বছর বয়সী কোনে। সংঘর্ষের পরই যন্ত্রণায় মাঠে লুটিয়ে পড়েন তিনি এবং গোড়ালি চেপে ধরে কাতরাতে থাকেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দ্রুত মাঠে প্রবেশ করে কানাডার মেডিকেল দল এবং শেষ পর্যন্ত তাকে বদলি করে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়।ম্যাচটি দেখতে বিসি প্লেসে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে একটি বক্সে বসে তিনি ম্যাচ দেখেন। কার্নি এ বিশ্বকাপে কোনো আয়োজক দেশের প্রথম নেতা হিসেবে মাঠে খেলা দেখলেন। জয়ের পর তিনি লকার রুমে গিয়ে খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানান এবং সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত বক্তব্যও দেন। এর আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই কার্নি কার্স বা, কার্নির অভিশাপ নিয়ে রসিকতা করছিলেন।
কিন্তু ৬-০ গোলের জয়ের পর সুর পাল্টে যায়। অনেকেই বলতে শুরু করেন, কার্নি আসলে সৌভাগ্য নিয়ে এসেছেন।
