
আমাদের মধ্যে অনেকেই ক্রমাগত মাথাব্যথার সঙ্গে লড়াই করে যাচ্ছেন। গরম, ঠান্ডা যে কোনো সময়েই এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। ঘন ঘন মাথাব্যথার কারণগুলো দিন দিন পরিবর্তন হচ্ছে।
ওদিকে,বেশ কয়েকটি কারণে মাথাব্যথা হতে পারে।আর সে কারণগুলো উদঘাটন করে সময়মতো নিতে হবে চিকিৎসা। এখন প্রশ্ন হলো ঠিক কী কী কারণে মাথা ব্যথা হতে পারে। উত্তর হল জলশূন্যতা মাথাব্যথার সবচেয়ে নিম্নমানের কারণ।এর ফলে রক্তের পরিমাণ কমে যায়, যার ফলে রক্তের প্রবাহও কমে যায়। আর মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যাওয়ার ফলে মাথাব্যথা হতে পারে।কোনো কারণে মাথায় আঘাত পেলে স্থায়ী মাথাব্যথা হতে পারে। যা পোস্ট-ট্রমাটিক মাথাব্যথা হিসেবে পরিচিত।এই মাথাব্যথার তীব্রতা এবং সময়কাল বিভিন্ন মাত্রায় হতে পারে। প্রাথমিক আঘাতের পরে কয়েক সপ্তাহ, মাস বা এমনকি বছর ধরে চলতে পারে।আবার,বেশি মাত্রায় ওষুধ সেবন করলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে মাথাব্যথা হতে পারে। হতে পারে অবস্থার অবনতিও। তাই অতিমাত্রায় ওষুধ সেবন না করে চিকিৎসকের পরামর্শানুযায়ী সেবন করা উচিত।যদি অন্তর্নিহিত কারণটির সমাধান না করা হয় তবে এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হয়ে উঠতে পারে।ওদিকে,দীর্ঘ সময় ধরে ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করা বা দুর্বল আলোতে কাজ করার ফলে চোখে ক্লান্তি আসতে পারে। এর ফলে হতে পারে মাথাব্যথা। ক্রমাগত স্ক্রিনের দিকে তাকালে চোখের পলক কমে যায়, যার ফলে চোখ শুষ্ক হয় এবং অস্বস্তি হয়। আর এটি থেকেই মাথাব্যথা হতে পারে।পাশাপাশি,মাসিক চক্রের সময় হরমোনের পরিবর্তন বা গর্ভাবস্থায় মাথাব্যথা করতে পারে। একইভাবে জন্মনিয়ন্ত্রণ ওষুধ এবং হরমোন প্রতিস্থাপন থেরাপির কারণে হরমোনের ওঠানামা কখনো কখনো মাথাব্যথার কারণ হতে পারে।অন্যদিকে,মস্তিস্কে টিউমারের ঘটনা যদিও বিরল, তবে এটি ঘন ঘন মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। আর এই টিউমারটি যদি সংবেদনশীল স্থানে হয় তাহলে তা মস্তিষ্কের কাঠামোকে প্রভাবিত করে। মস্তিষ্কের টিউমারের সঙ্গে সম্পর্কিত মাথাব্যথা প্রায়শই স্থায়ী হয়। সেই সঙ্গে এর অবস্থান বা কার্যকলাপের পরিবর্তনের সঙ্গে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে।এছাড়া,পরিবেশগত বিভিন্ন কারণে এবং খাবারের কারণে মাথাব্যথা হতে পারে। যেমন চকলেট, অ্যালকোহল, গাঁজানো খাবার এবং পনির। এছাড়া গৃহস্থালির রাসায়নিক, পারফিউম, উচ্চ শব্দ বা ধোঁয়া থেকে তীব্র গন্ধও মাথাব্যথার কারণ হতে পারে।
এসব কারণে যদি ঘন ঘন মাথাব্যথা তবে তাড়াতাড়ি চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। আর নিজের প্রাত্যহিক অভ্যাসে পরিবর্তন নিয়ে আসুন। তবে মাথাব্যথার প্রকোপ বেশি না হলে ঘরোয়া উপায়ে এর প্রতিকার করতে পারবেন।
ছবি সৌজন্যে : রিপ্রেসেন্টেশনাল
