
শুক্রবার কলকাতা বিমানবন্দরে মেসির বিমান নামতেই উচ্ছ্বাসের বাধ ভাঙে, এরপর কার্যত ভোর থেকেই যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভিড় জমাতে থাকেন ফ্যানেরা। একঝলক ফুটবলের রাজপুত্রকে দেখার জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন।
হায়াত হোটেলে প্রোগ্রাম সেরে ঠিক সকাল সাড়ে ১১টায় যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ঢোকে লিওনেল মেসির গাড়ি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন লুইস সুয়ারেজ, রদ্রিগো ডি’পল। তখন গ্যালারি জুড়ে শুধুই মেসি মেসি গর্জন। ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা দেখে হাসিমুখেই ছিলেন মেসি। কিন্তু গাড়ি থেকে নামার পরেই পরিস্থিতি আস্তে আস্তে জটিল হতে থাকে। মন্ত্রী, কর্তারা ঘিরে ধরেন আর্জেন্টিনার তারকাকে। সেলফি তোলার জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। গ্যালারি থেকে প্রায় ২০ মিনিট মেসিকে দেখাই যায়নি। এরপরেই তাল কাটে অনুষ্ঠানের। উই ওয়ান্ট মেসি স্লোগান দিতে থাকেন দর্শকরা। হাজার হাজার টাকার টিকিট কেটে আসা দর্শকদের ভরসা ছিল স্টেডিয়ামের তিনটি জায়ান্ট স্ক্রিন। কিন্তু সেখানেও মেসিকে পরিস্কার বোঝা যাচ্ছিল না। মোহনবাগান এবং ডায়মণ্ড হারবারের প্রাক্তন ফুটবলারদের সঙ্গে মেসি পরিচিত হওয়ার সময়ও ভিড় ঘিরে ছিল তাঁকে। বিক্ষোভ ছড়াতেই নির্ধারিত সময়ের আগে ১১টা ৫২ মিনিটে মেসিকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপরেই তাণ্ডব শুরু করেন দর্শকরা। মাঠে চেয়ার ছুড়তে থাকেন দর্শকরা। ফেস্টুন, ভিআইপি সোফা, শামিয়ানা ভেঙে গুঁড়িয়ে আগুন দিয়ে দেওয়া হয়। গেট ভেঙে কাতারে কাতারে দর্শক মাঠে ঢুকে পড়েন। পরো যুবভারতী স্টেডিয়াম কার্যত যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশ, র্যাফ লাঠি নিয়ে তাড়া করেন। পাল্টা দর্শকরা চেয়ার, বোতল ছুড়তে থাকেন।
দর্শকরা আয়োজক শতদ্রু দত্ত, ক্রীড়ামন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। টাকা রিফান্ডের দাবি তুলতে থাকেন।






