শিশুর ট্রমা ও বাবা-মায়ের করণীয়

0
187
ছবি সৌজন্যে : রিপ্রেসেন্টেশনাল

সাধারণত বলা হয় শিশুদের ট্রমা হতে পারে অনেক কিছুর কারণে।যেমন কেউ যদি শিশুটিকে কষ্ট দেয় বা অপমান করে,যদি সে ভয়াবহ দুর্ঘটনা দেখে বা দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়,যদি প্রিয় কেউ মারা যায় বা পরিবারে ভাঙন ঘটে,যদি সে গৃহহীন হয়ে পড়ে বা অসুস্থ হয়।

এই ঘটনাগুলো শিশুদের মনে ভয়ের ছায়া ফেলতে পারে, যেন তাদের আশেপাশের পৃথিবীটাই বদলে গেছে।এখন প্রশ্ন হল,এই আঘাত শিশুদের মনে কী প্রভাব ফেলে?ট্রমার পর শিশুরা অনেক রকম অনুভব করতে পারে।তারা আতঙ্কিত থাকে, ছোট ছোট জিনিসেও ভয় পায়।মন খারাপ থাকে, কখনো হঠাৎ রেগে যায়, আবার কখনো চুপচাপ হয়ে যায়।অনেকেই ভাবে, আমার জন্যই এসব হয়েছে। কেউ কেউ নিজের মন খারাপ গোপন করে রাখে, যেন কেউ বুঝতেই না পারে।এমনও হয়, শিশুটি রাতে ঘুমাতে পারে না, দুঃস্বপ্ন দেখে বা বারবার সেই ঘটনার কথা মনে পড়ে। কারো কারো আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন আসে ,স্কুলে মনোযোগ কমে, বন্ধুদের এড়িয়ে চলে, বা খুব চুপচাপ হয়ে যায়।এই সময় বাবা-মায়ের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।আপনি যদি পাশে থাকেন, মনোযোগ দেন, ভালোবাসা দেন,তাহলে আপনার সন্তান ধীরে ধীরে আবার আগের মতো হয়ে উঠতে পারে।কী করতে পারেন আপনি? সময় দিন,প্রতিদিন কিছুটা সময় একসঙ্গে কাটান। ওর সঙ্গে গল্প করুন, হাঁটুন, একসঙ্গে রান্না করুন, খেলুন বা শুধু বসে থাকুন। এই ছোট ছোট সময়গুলোই ওর মন শান্ত করবে। নরম, ভালোবাসার ভাষা ব্যবহার করুন,আপনার সন্তানের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিন। ওর ভুল হলে ধৈর্য ধরুন, বুঝিয়ে বলুন। যখন ও চেষ্টা করছে, তখন প্রশংসা করুন। বলুন, আমি তোমার জন্য গর্বিত।ভালোবাসা প্রকাশ করুন,একটা আলিঙ্গন, একটা মমতাভরা হাসি, মাথায় হাত রাখা,এসবের মাধ্যমে ও বুঝবে, আমি একা না, মা-বাবা আমার পাশে আছেন।

শান্ত রুটিন তৈরি করুন,ঘুমানোর আগে গল্প বলা, গান গাওয়া বা আলিঙ্গন করে শুভরাত্রি বলা শিশুর মনে নিরাপত্তা আনে। এই ছোট্ট অভ্যাসগুলো ওর মনকে সাহস জোগায়।