
ইংরেজি নববর্ষের শুরুর দিন থেকেই কন্ডোমের দাম বাড়াল চিন। যা নিয়ে দেশবাসীর চোখ কপালে উঠেছে। একইসঙ্গে বিরক্তি ও হাসিরও খোরাক হচ্ছে কমিউনিস্ট সরকার।
প্রায় ৩০ বছর পর কন্ডোম সহ যে কোনও গর্ভনিরোধক ব্যবস্থার উপর একধাক্কায় ১৩ শতাংশ মূল্যযুক্ত কর বা বিক্রয় কর বাড়ানো হয়েছে। একসময়কার জনবিস্ফোরণ রুখতে ১৯৯৩ সালে গর্ভনিরোধক যে কোনও সামগ্রী ও ব্যবস্থাকে করহীন করেছিল সরকার। তারাই ৩০ বছর পর নতুন ব্যবস্থা চালু করায় চিনে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এল, যখন জনসংখ্যা হ্রাস ও জন্মহারের লাগাতার পতনে গভীর সঙ্কটে রয়েছে বেজিং। নতুন করটি চিনের সামগ্রিক ভ্যাট কাঠামোর সংস্কারের অংশ, যার সূচনা হয়েছিল ১৯৯৩ সালে। সে সময় এক-সন্তান নীতি কার্যকর থাকায় সরকার নিজেই বিনামূল্যে বা ভর্তুকিতে গর্ভনিরোধক সরবরাহ করত।সেই আমলে অনেক ক্ষেত্রে জোর করে গর্ভপাত করানো হয়েছিল, এমনকী সরকার নির্দিষ্ট সংখ্যার বাইরে জন্মানো শিশুদের পরিচয়পত্র না দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।কিন্তু সময় বদলেছে। এখন সেই একই দেশ জন্মহার বাড়াতে বিয়ে ও সন্তান জন্মে উৎসাহ দিতে নানা উৎসাহমূলক কর্মসূচি চালু করেছে।
যেমন,সন্তান জন্মে ভর্তুকি, মাতৃত্ব ও পিতৃত্বকালীন দীর্ঘ ছুটি, শিশুর যত্ন, বিবাহ-পরামর্শ পরিষেবা এবং প্রবীণ পরিচর্যায় করছাড় ইত্যাদি। তবু গর্ভনিরোধকের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতুক ও উদ্বেগ,দুটোই দেখা যাচ্ছে। বহু তরুণের বক্তব্য, কন্ডোমের দাম বাড়লেই সন্তান গ্রহণের সিদ্ধান্ত বদলে যাবে,এমন ভাবনা অবাস্তব। কারণ চিনে একটি শিশুকে বড় করার খরচ বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল।








