জিনপিংয়ের আমলেই আক্রমণাত্মক চিন

0
9

Last Updated on by

শি জিনপিংয়ের আমলেই ভারতের বিরুদ্ধে সবথেকে বেশি আক্রমণাত্মক আচরণ করেছে চিনের সরকার।সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেস দ্বারা নিযুক্ত এক কমিশনের রিপোর্টে এই দাবিই করা হয়েছে।

বলা হয়েছে, জিনপিংয়ের আগে চিনের ক্ষমতায় থাকা কোনও রাষ্ট্রপতিই ভারতের প্রতি এত আগ্রাসী মনোভাব দেখাননি। ভারতের প্রতি বেজিংয়ের পররাষ্ট্র নীতি কোনওদিনই এরকম ছিল না।রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, চিনের কমিউনিস্ট পার্টি -এর সাধারণ সম্পাদক শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে বেজিং সবসময় দিল্লির প্রতি খুব আক্রমণাত্মক আচরণ করেছে। প্রতিমুহূর্তে আগ্রাসী একটা মনোভাব লক্ষ্য করা গিয়েছে। ২০১৩ সাল থেকে সীমান্ত ও নিয়ন্ত্রণরেখা নিয়ে ভারতের সঙ্গে পাঁচবার বড়সড় গন্ডগোলে জড়িয়েছে তারা।সম্পর্ক ঠিক রাখতে ভারতের পক্ষ থেকে বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহার করা হলেও বারবার বিশ্বাসঘাতকতা করেছে চিন।দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ঠিক করতে ও সীমান্ত সংক্রান্ত বিবাদ মেটাতে দুটি দেশের মধ্যে একাধিক চুক্তি হয়েছে। কিন্তু, প্রতিবার চুক্তি করার পরও সীমান্তে ভারতের এলাকা দখলের চেষ্টা করেছে চিন। শান্ত পরিবেশ অশান্ত করে তোলার চেষ্টা করেছে।

গালওয়ান আমাদের, আচমকা গত এক মাসে চীনের সঙ্গে সংঘাত ইস্যুতে শিরোনামে আসা লাদাখের লেহতে হাজির হয়ে চিনকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফরওয়ার্ড পোস্টে মোতায়েন সৈনিকদের সম্মান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আপনাদের বীরত্বের জন্য দেশ সুরক্ষিত আছে। শান্তির জন্য শক্তি চাই। আপনারা সেটা দেখিয়ে দিয়েছেন।তাঁর কথায়,দুর্বলেরা নয়, শান্তির কথা বলতে পারেন বীরেরাই। ১৫ জুন লাদাখের গলওয়ান উপত্যকায় চিনের সঙ্গে সংঘর্ষে মৃত্যু হয় ভারতীয় সেনা বাহিনীর ২০ জন সদস্যের। শুক্রবার ১১ হাজার ফুট উচ্চতায় লেহ-তে গিয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনী, বায়ুসেনা ও আইটিবিপি জওয়ানদের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার কাকভোরে উত্তেজনার আবহেই লাদাখে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী।লেহ থেকে সেনার চপারে করে নিমুতে ফরোয়ার্ড পোস্টে পৌঁছন মোদি।তাঁর সঙ্গী ছিলেন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল বিপিন রাওয়াত ও সেনাপ্রধান মনোজমুকুন্দ নারাভানে। লাদাখে উত্তেজনার পরিস্থিতিতে জওয়ানদের মনোবল বাড়ান প্রধানমন্ত্রী মোদি। বলেছেন, ভারতীয় সেনার সাহস ও দেশমাতৃকার প্রতি তাঁদের আত্মনিবেদনের কোনও তুলনা হয় না।দেশের মধ্যে এবং দেশের বাইরে বসবাসকারী প্রত্যেক ভারতীয় এই কথা বিশ্বাস করেন যে আপনারা দেশকে সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম।

চিনের আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, এই যুগ বিকাশের। এখানে সাম্রাজ্যবাদী মানসিকতার বা চেষ্টার জায়গা নেই।সেটা সবাইকে বুঝতে হবে।বিশ্ব শান্তির জন্য বারবার বিপদ ডেকে এনেছে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি।তবে ইতিহাস সাক্ষী, প্রত্যেকবারই তাদের পরাজিত হতে হয়েছে।ভারত শান্তির কথা বলে তবে প্রয়োজনে শ্রী কৃষ্ণের সুদর্শন চক্রের পূজাও করে। আমরা হাতিয়ার ধরতে জানি।গালওয়ান উপত্যকা আমাদের। লাদাখ দেশের মুকুট। জওয়ানদের আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, সীমান্তে পরিকাঠামো নির্মাণে খরচ তিনগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে সীমান্তে আরও দ্রুত সড়ক ও সেতু তৈরি হবে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লাদাখ সফর নিয়ে মুখ খুলেছে চিন।সরাসরি নাম না করে বেজিংয়ের বক্তব্য,এই মুহূর্তে কোনও পক্ষেরই উচিত নয় উস্কানিমূলক পদক্ষেপ করা। তবে, ভারতীয় ভূখণ্ডে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফর কোন যুক্তিতে উসকানিমূলক, তা অবশ্য বলেনি চিন। চিনা বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান বলেছেন, ভারত ও চিন আলোচনার মাধ্যমে সীমান্তে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে। এ সময়ে কোনও পক্ষেরই উচিত নয় এমন কোনও পদক্ষেপ করা যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে।

মার্কিন কংগ্রেস দ্বারা নিযুক্ত কমিশনের রিপোর্টটির লেখক ও কমিশনের একজন বিশ্লেষক উইল গ্রিন জানিয়েছেন,চিনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের এই আগ্রাসী মনোভাবের পিছনে ভারতের সঙ্গে আমেরিকার ভাল সম্পর্কই দায়ী। হোয়াইট হাউস ও তাদের সহযোগীদের সঙ্গে দিল্লির ঘনিষ্ঠতা জিনপিংয়ের মানসিক চাপ বাড়িয়েছে। আর তারই ফলশ্রুতি হল সম্প্রতি লাদাখে হয়ে যাওয়া ভারতের সঙ্গে চিনের সেনার সংঘর্ষের ঘটনা। পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক না রাখার বিষয়ে ভারতকে একটা বার্তা দিতে চাইছে চিন। হুঁশিয়ারি দিচ্ছে।রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ২০১২ সালে শি জিনপিং চিনের রাষ্ট্রপতি পদে বসার পর থেকেই ভারতের প্রতি চিনের আচরণে বদল হতে শুরু করে। ২০১৩ সালে অরুণাচলে সীমান্ত নিয়ে বড়সড় সংঘাতও হয়। ১৯৮৭ সালের পর দু’দেশের মধ্যে সীমান্ত নিয়ে এতদিন বাদে কোনও বড় ঘটনা ঘটে। মাঝে ছোটখাট সমস্যা হলেও শান্তিই বিরাজ করছিল।

তবে ২০১৪ সালে ভারতের ক্ষমতায় এনডিএ সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর আসনে নরেন্দ্র মোদি বসতেই পরিস্থিতি আরও বদলে যায়। এরপর থেকে ভারতের সঙ্গে আমেরিকার সখ্যতা যত বেড়েছে, নয়াদিল্লির প্রতি রাগ জন্মেছে বেজিংয়ের। লাদাখের ঘটনা তার প্রমাণ।