নিউটাউনের চক্র ছড়িয়েছিল পূর্ব ভারতে

0
12

বুধবার নিউটাউনের এনকাউন্টারের প্রাথমিক ক্লু এসটিএফ পেয়েছিল রবিবার বীরভূমের সিউড়িতে। এসটিএফ সূত্রে খবর, সিউড়ি থেকে দুবরাজপুর যাওয়ার পথে ষাট নম্বর জাতীয় সড়কে এসটিএফ-র নাকায় একটি গাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণে আগ্নেয়াস্ত্র এবং বিস্ফোরক আটক করা হয়। যার মধ্যে ছিল প্রচুর সেভেন এমএম পিস্তল, ম্যাগাজিন, গুলি এবং প্রচুর বারুদ।

এসটিএফ-র ওই টিম ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুজনকে গ্রেফতারের পর প্রকাশ্যে আসে বিহার থেকে পশ্চিমবঙ্গে অস্ত্র চোরাচালানের এক জাতীয় চক্র। এসটিএফ লরির চালক এবং খালাসিকে গ্রেফতার করে সিউড়ির আদালতে পেশ করলে তাদের দশদিনের পুলিশ হেফাজত হয়। আর সেখানেই জিজ্ঞাসাবাদ পর্বে উঠে আসে পাঞ্জাবের গ্যাংস্টার জয়পাল সিংয়ের নাম। জানা যায়, কলকাতা তথা পূর্ব ভারতে অস্ত্র চোরাচালানে যুক্ত গ্যাংস্টার জয়পাল সিং ও তার সঙ্গীরা কলকাতার নিউটাউনে এক অভিজাত আবাসনের বহুতলের স্থায়ী বাসিন্দাও। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই বুধবার বিকেলে আচমকাই সাপুরজির বি ব্লকের দুশো এক নম্বর ফ্ল্যাটে হানা দেয় এসটিএফ। গুলি করে মারা হয় জয়পাল সিং ভুল্লার ও তার সঙ্গী জশপ্রীত সিংকে। এসটিএফ জানিয়েছে, পাঞ্জাবের মোস্ট ওয়ান্টেড এই ক্রিমিনালের বিরুদ্ধে দুই পুলিশ কর্মীকে খুনের অভিযোগ রয়েছে। গত বছরের ষোলোই মে লুধিয়ানার জাগরাও জেলায় তদন্তকারী সংস্থার দুই এএসআই ভগবান সিং ও দলবিন্দর সিংকে হত্যা করে দুষ্কৃতীরা। মৃত জয়পালের বিরুদ্ধে কমপক্ষে পনেরোটি খুনের মামলা রয়েছে বলে পাঞ্জাব পুলিশ সূত্রে খবর। এক রাজনৈতিক নেতা খুনেও জড়ায় এদের নাম। পাঞ্জাব পুলিশের তরফে তাদের মাথার দাম ধার্য করা হয়েছিল ১০ এবং ৫ লাখ টাকা। এদিকে, মৃতদের ফ্ল্যাট থেকে সাত লাখ টাকা, ৮৯ রাউন্ডের ওপর তাজা কার্তুজ এবং ব্লক সহ ৫ অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।