
হাওড়ার গোলাবাড়ি এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা গাফিলতির অভিযোগে এবং রোগীর মৃত্যুর পর টাকা নেওয়ার ঘটনায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র উত্তেজনা। পরিবার ও আত্মীয়দের ক্ষোভের মুখে পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, যা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তোলে। এই ঘটনার পেছনে রয়েছে এক বাইকারোহীর দুর্ঘটনা এবং হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের অস্বচ্ছতা।
দুর্ঘটনার পর হাসপাতালের অস্বচ্ছতা
শনিবার রাত এগারোটা নাগাদ টিকিয়াপাড়া বাইপাসে এক বারো চাকার ট্রাকের ধাক্কায় আহত হন সুরাজ শর্মা নামে এক বাইকারোহী। তাকে দ্রুত উত্তর হাওড়ার গোলাবাড়ি থানার অন্তর্গত একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আচরণ ছিল অত্যন্ত সন্দেহজনক। মঙ্গলবার, পরিবারের কাছে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা জমা দেওয়ার দাবি জানানো হয়, যা তাদের জন্য ছিল অবিশ্বাস্য এবং হতাশাজনক। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে যে, কি কারণে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ দাবি করা হলো?
পরিবারের প্রতিক্রিয়া ও পুলিশের হস্তক্ষেপ
সুরাজ শর্মার দাদা অনিল শর্মা জানান, টাকা জমা দেওয়ার পরই হাসপাতাল থেকে জানানো হয় যে রোগী মারা গিয়েছে। এই খবর শুনেই পরিবারের সদস্যরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী উপস্থিত হয় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে। উত্তেজিত জনতার মধ্যে রাস্তা অবরোধ করার চেষ্টা হলে পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে, যা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তোলে। এ ধরনের ঘটনা সমাজে স্বাস্থ্যসেবাকে নিয়ে মানুষের আস্থা কমিয়ে দেয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা。
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
হাওড়ার ওই হাসপাতালের সিইও মহুয়া গোলদারের দাবি, যে কোনো মৃত্যু দুর্ভাগ্যজনক এবং তারা অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। তবে পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ অনুযায়ী, অর্থ আদায়ের সময় এমন ঘটনা ঘটেছে যা প্রশ্নবিদ্ধ করছে চিকিৎসকদের নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধকে। স্থানীয় জনগণ মনে করেন যে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করতে হবে এবং স্বাস্থ্যসেবায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এমন সমস্যায় না পড়ে。
ছবি সৌজন্যে : নিজস্ব








