
এখন যা অবস্থা তাতে অফিস, পরিবার ও নিজের সময় সামলে প্রতিদিন ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখা অনেকের কাছেই ঝামেলার কাজ মনে হয়। বাড়ির সব জায়গায় সপ্তাহ ঘুরতে না ঘুরতেই ধুলো জমে। কিন্তু পরিচ্ছন্নতার এই কাজে কিছু সাধারণ ভুল করে ফেললে তা আরো কঠিন হয়ে যায়।
এদিকে অনেকে ছুটির দিনের জন্য সব কাজ জমিয়ে রাখেন।তারপর একসঙ্গে অনেক কিছু করতে গিয়ে কোনো কাজই শেষ হয় না, বরং আরো এলোমেলো হয়ে পড়ে।এই অবস্থায় কোন জায়গা আগে পরিষ্কার করবেন,যেমন বেসিন, টেবিল, জানালা, তার তালিকা তৈরি করুন। প্রতিটি কাজের জন্য আলাদা সময় বরাদ্দ করুন।এক কাজ শেষ না করে আরেকটিতে হাত দেবেন না।ওপরের দিক বাদ দিয়ে নিচ থেকে শুরু করাখুব জরুরি।দেখা যায়,বেশির ভাগ মানুষ মেঝে বা টেবিল পরিষ্কার করে শুরু করেন। তারপর চোখ পড়ে দেয়ালে ঝোলানো ছবি বা ঝাড়বাতিতে। তখন আবার নিচে ধুলো পড়ে যায়,পরিশ্রম হয় দ্বিগুণ।সমাধান, পরিষ্কার করা শুরু করুন ওপরের দিক থেকে,দেয়াল, ছবি, ঝাড়বাতি, জানালা। পরে নামুন নিচে,টেবিল, চেয়ার, মেঝে ইত্যাদি।পাশাপাশি প্রতিটি জিনিস পরিষ্কারের জন্য আলাদা ক্লিনার ও সরঞ্জাম কিনে আনলে কাজ সহজ নয়,বরং বেশি সময়সাপেক্ষ হয়ে যায়। চেষ্টা করুন এমন ক্লিনিং দ্রব্য ব্যবহার করতে যা একাধিক জিনিসে ব্যবহার করা যায়,যেমন কাচ, কাঠ ও স্টিলের জন্য উপযোগী। এতে পরিষ্কার করার গতি বাড়বে ও খরচও কমবে।অন্যদিকে,যেকোনো কাপড় দিয়ে টিভি বা ল্যাপটপের স্ক্রিন মুছলেই হয় না,দাগ পড়ে যেতে পারে। আবার মাইক্রোফাইবার কাপড়ে মেঝে মোছা সময়সাপেক্ষ।সে জন্যে টিভি, ল্যাপটপ, মোবাইল স্ক্রিনের জন্য মাইক্রোফাইবার ক্লথ ব্যবহার করুন। মেঝে মোছার জন্য নিন মোটা ও শক্ত কাপড়। কাঠের ফার্নিচার পরিষ্কারে তুলনামূলক নরম কাপড় ব্যবহার করুন।এর বাইরে,মাঝেমধ্যে দেখা যায়, কেউ শুধু মেঝে মোছেন, কিন্তু জানালা, দরজা, আসবাবের ধুলো তোলেন না। আবার কেউ ঘর গুছিয়ে রাখতে না পেরে জিনিসপত্র টেবিলেই জমাতে থাকেন। সমস্যা হয়, যখন হঠাৎ অতিথি চলে আসেন।
তাই সব কিছু এক দিনে না করে সপ্তাহে ২ দিন ভাগ করে পরিষ্কার করুন। নিয়মিত পরিষ্কার করলে বড় পরিষ্কারের প্রয়োজনই পড়ে না।আসলে,পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কেবল ঘরের সৌন্দর্য বাড়ায় না, বরং মানসিক প্রশান্তিও দেয়। পরিকল্পনা করে, সঠিক উপায়ে, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দিয়ে পরিষ্কার করলে কাজ হবে দ্রুত, সহজ আর ঝামেলাহীন।








