ইরানের সাথে দ্বিতীয় যুদ্ধের প্রস্তুতিতে ইসরায়েল?

0
139
ছবি সৌজন্যে : রিপ্রেসেন্টেশনাল

ইরানের সাথে সাম্প্রতিক ১২ দিনের যুদ্ধকে সফল বলে আখ্যা দিয়েছে ইসরায়েলের নেতৃত্ব। দেশটির দাবি, এই অভিযানে কয়েকজন শীর্ষ ইরানি সামরিক কর্তাকে হত্যা করা হয়েছে, দুর্বল করা হয়েছে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো আমেরিকাকে ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্র ফোর্দোর উপর হামলার জন্য রাজি করানো হয়েছে।

তবে যুদ্ধ থেমে গেলেও উত্তেজনা কমেনি। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তিনি গ্যাসের প্যাডেল ছাড়ার কোনো ইচ্ছা রাখেন না। অর্থাৎ, যুদ্ধের প্রস্তুতি বা আগ্রাসন বন্ধের কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না তেল আবিব।ইরানের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুলফজল শেকারচি জানিয়েছেন, যুদ্ধের প্রথম রাতেই শীর্ষ সেনা কমান্ডাররা নিহত হওয়ার পরেও ইরানের এয়ারোস্পেস ফোর্স পশ্চিমী বিশ্বের অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে ইসরায়েলের বিভিন্ন অঞ্চলে গভীরভাবে আঘাত হানতে সক্ষম হয়। কোমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, অপারেশনের প্রথম রাতেই কমান্ডের প্রথম স্তর শহীদ হলেও নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির দূরদর্শিতা ও সেনাবাহিনীর দ্রুত পুনর্গঠনের ফলে আইআরজিসি’র এয়ারোস্পেস ফোর্স বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম হয়।তিনি আরও জানান, ইরানের ১২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ হামলার পথে আমেরিকা, জার্মানি, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের তৈরি শত শত ফাইটার জেট, উন্নত রাডার এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন ছিল, তবুও ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র এই প্রতিরক্ষা ছেদ করে উত্তর থেকে দক্ষিণ পর্যন্ত দখলকৃত অঞ্চলগুলোতে আঘাত হানে।এদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরায়েল এখন নতুন করে আরেকটি বিধ্বংসী সংঘাতের সুযোগ খুঁজছে। যার মূল লক্ষ্য হবে ইরানকে দুর্বল করা বা পতনের দিকে ঠেলে দেওয়া। তবে, এটি করতে গেলে তাদের আবারও আমেরিকার সমর্থন প্রয়োজন হবে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে অনিশ্চিত।ওদিকে,গত জুন মাসের মাঝামাঝি একটি অকস্মাৎ ইসরায়েলি হামলা থেকেই শুরু হয় এই যুদ্ধ, যেখানে এক হাজারেরও বেশি ইরানি এবং ২৯ জন ইসরায়েলি নিহত হয়।ইসরায়েলের দাবি, এটি ছিল আত্মরক্ষামূলক হামলা। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ধ্বংস করাই তাদের উদ্দেশ্য। তবে সাক্ষাৎকারে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন,ইসরায়েল যদি আবার হামলা করে আমরা এবার আরও শক্তভাবে জবাব দেব।

তাঁদের সামরিক বাহিনী ইসরায়েলের অভ্যন্তরে গভীরে হামলার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।যদিও ইসরায়েল দাবি করেছিল তারা পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করেছিল। তবে বাস্তবে দেখা গেছে তাদের হামলার মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের শীর্ষ সামরিক ও সরকারী কর্মকর্তাদের হত্যা।