করোনার ওষুধ : কে কোথায় দাঁড়িয়ে  

0
7

Last Updated on by

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, এক দিনে সর্বোচ্চসংখ্যক মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্তের ঘটনা ঘটেছে গত ২৪ ঘণ্টায়। নতুন করে শনাক্ত হয়েছে এক লাখ ৮৩ হাজারের বেশি রোগী।

ফলে প্রতি সেকেন্ডে দুইজনের বেশি রোগী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হচ্ছে।আমেরিকা,ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে এখনো করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।এর মধ্যে,সুখবর দিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বিজ্ঞানী ড: সৌম্য স্বামীনাথন। জানিয়েছেন, পরবর্তী বছর শেষের আগেই তৈরি হয়ে যাবে ২০০ কোটি করোনা প্রতিষেধক। এই মুহুর্তে প্রমাণিত কোনো প্রতিষেধক নেই। বিজ্ঞানীরা যদিও মনে করছেন এখনো করোনা লড়াইয়ে কার্যকরী প্রতিষেধক পেতে ১২ থেকে ১৮ মাস সময় লাগবে। গত মাসে গ্লোবাল ফার্মাসিউটিক্যালসের ফিজার জানিয়েছিলেন, অক্টোবরের শেষেই করোনা প্রতিষেধক তৈরি হয়ে যাবে।

এখন সারা বিশ্বে ১০০ টি প্রতিষেধকের উপর বিভিন্ন স্তরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। কিন্তু পাকাপাকি সুফল নিয়ে করোনার সঙ্গে লড়াই করবে এমন প্রতিষেধকের খোঁজ এখনো ধোঁয়াশায়। এর মধ্যে এবার বিশ্বের মানুষের কাছেই স্বস্তির খবর। মারণ ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারের দাবি করেছেন নাইজেরিয়ার বিজ্ঞানীরা।নাইজেরিয়ান ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা ঘোষণা করেছেন এই ভ্যাকসিন আপাতত আফ্রিকায় আক্রান্তদের জন্য ব্যবহার করা হবে।এরপরে বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলির কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। ভ্যাকসিন আবিস্কারক দলের প্রধান গবেষক ও মেডিক্যাল ভাইরোলজি স্পেশালিস্ট ড. ওলাদিপো কোলাওলে জানিয়েছেন, টিকাটির নামকরণ এখনও হয়নি। নামহীন এই ভ্যাকসিনটি বিশ্বে মুক্তি পেতে আরও ১৮মাস সময় লাগবে।

ভারতে যেমন করোনা আক্রান্ত বেড়ে চলেছে ঠিক সেভাবেই দক্ষিণ আমেরিকার দেশ মেক্সিকোয় মৃতের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, এ এক নতুন ভয়ানক পরিস্থিতি। অন্যদিকে, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে করোনার প্রতিষেধক নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ নির্বিঘ্নেই চলছে। ইতিমধ্যেই হাজারের বেশি গ্রহীতাকে এই প্রতিষেধক দেওয়া হয়েছে।পরীক্ষার ফল অবশ্য সেপ্টেম্বরের আগে জানানো হবে না।ভারতে ক্রমশ করোনা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। এই পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি দিয়ে করোনার চিকিৎসায় নতুন ওষুধ বাজারে ছেড়েছে ভারতের ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি সিপলা। করোনার চিকিৎসায় নতুন শক্তিশালী ওষুধ সিপ্রেমি ইতিমধ্যেই লঞ্চ করেছে সিপলা।করোনার চিকিৎসায় গোটা বিশ্বে আশা জাগিয়েছে মার্কিন ফার্মাসিউটিক্যাল জায়েন্ট গিলেড সায়েন্স-এর তৈরি রেমডিসিভির। ভারতের সিপলা, হেটেরো ল্যাব আর জুবিল্যান্ট লাইফ-কে রেমডেসিভির তৈরির অনুমতি দিয়েছে গিলেড সায়েন্স।এই তিন সংস্থার মধ্যে সিপলা আর হেটেরো ল্যাব সরাসরি রেমডেসিভির উৎপাদনের অনুমতি চেয়েছিল কেন্দ্রের ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল বোর্ডের কাছে।

অনুমতি মেলার এক মাসের মধ্যেই করোনার চিকিৎসায় শক্তিশালী ওষুধ সিপ্রেমি বাজারে ছেড়েছে সিপলা।এটি আসলে গিলেড সায়েন্স-এর তৈরি রেমডিসিভিরের জেনেরিক ওষুধ যা সিপ্রেমি নামে বাজারে এনেছে সিপলা।জানা গিয়েছে, এই ওষুধটি কোভিড ১৯ সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশু ও প্রাপ্ত বয়স্ক রোগীদের চিকিৎসায় প্রয়োগের অনুমতি পেয়েছে। যে সমস্ত রোগীকে অক্সিজেন দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে,তাঁদের ক্ষেত্রেই এই ওষুধ সবচেয়ে বেশি কার্যকর হবে বলে দাবি করা হচ্ছে। সিপ্রেমি হল ১০০ মিলিগ্রামের একটি ইনজেকশন যা প্রথম দিন রোগীকে দু’বার, ২০০ মিলিগ্রাম আর তার পর প্রতিদিন এক ডোজ ১০০ মিলিগ্রাম বা একবার করে ইনজেকশন দেওয়া হবে পর পর মোট পাঁচ দিন। পাঁচ দিন দেওয়ার পর সিপ্রেমি-এর কোর্স’সম্পূর্ণ হবে।

আসলে দেশে করোনা আক্রান্তে ওষুধের ঘাটতির সম্ভাবনা মাথায় রেখে ভারতীয় সংস্থাগুলিকে দ্রুত অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ তৈরি ও বিপণনের ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে। ড্রাগস কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া বা ডিসিজিআই, ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি গ্লেনমার্ক-কে ফ্যাভিপিরাভির-সমৃদ্ধ ফ্যাবি-ফ্লু ওষুধ তৈরি ও বিক্রির সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে। এর পরে আরও দুই ভারতীয় সংস্থা সিপলা এবং হেটেরো-কে রেমডেসিভিয়ার তৈরি ও বিক্রির অনুমতি দিয়েছে তারা। সিপলা-র ওষুধটির ব্র্যান্ড নেম হবে সিপ্রেমি। হেটেরো-র ওষুধের নাম কোভিফর।বলা হচ্ছে, হাসপাতালে ভর্তি এবং মাঝারি উপসর্গের যে রোগীদের অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে, শুধু তাঁদের ক্ষেত্রেই রেমডেসিভিয়ার প্রয়োগ করা যাবে। আজও জরুরি পরিস্থিতিতে ওষুধটির নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার-এর কথা মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওষুধ দিতে হলে রোগীর লিখিত অনুমতি লাগবে। ওষুধ দেওয়ায় কোনও বিরূপ ফল হচ্ছে কি না, পরীক্ষামূলক প্রয়োগে কী ফল মিলছে, সেই তথ্য সরকারকে জানাতে হবে। তিনটি প্রতিষেধক বাজারে আসার অপেক্ষায় রয়েছে, চলছে চূড়ান্ত পর্বের পরীক্ষা।

এ ছাড়াও রুশ বিজ্ঞানীদের তৈরি ওষুধ অ্যাভিফ্যাভির এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি স্টেরয়েড, ডেক্সামেথাসোন প্রয়োগ করে করোনার বিরুদ্ধে আশাতীত ফল মিলেছে।

কিন্তু এর মধ্যে এবার একেবারে ভিন্ন দাবি করেছেন ইতালির প্রথম সারির একজন গবেষক। তিনি মনে করেন, প্রতিষেধকের নাকি আর প্রয়োজনই হবে না। কারণ, এবার নিজে থেকেই সম্পূর্ণ নির্মূল হয়ে যাবে করোনাভাইরাস। ইতালির সান মার্টিনো জেনারেল হাসপাতালের সংক্রামক রোগের প্রধান গবেষক অধ্যাপক মাত্তিও বাসেত্তি দাবি করেছেন শক্তি হারিয়ে ক্রমশ দুর্বল হচ্ছে করোনাভাইরাস। শুধু তাই নয়, কোনো রকম প্রতিষেধক ছাড়াই এই ভাইরাস সম্পূর্ণ নির্মূল হয়ে যাবে। তিনি জানিয়েছেন, করোনা রোগীরাও এখন আগের তুলনায় অনেকটাই দ্রুত সেরে উঠছেন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই।বাসেত্তি দাবি করেছেন, মহামারি শুরুর দিকে করোনা সংক্রমণের আগ্রাসন যতটা লক্ষ করা গেছে, এখন সে তুলনায় ভাইরাসের তেজ অনেকটাই কমে এসেছে। তার মতে, এই ভাইরাসের সাম্প্রতিক জিনগত পরিবর্তনই হয়তো কারণ। জিনগত পরিবর্তনের ফলে এই ভাইরাসের আগ্রাসন বা প্রাণঘাতী ক্ষমতা এখন হ্রাস পেয়েছে।