Tuesday, September 27, 2022
লাইফস্টাইলরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করুন

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করুন

রক্তচাপ জীবন প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নির্দিষ্ট চাপ সীমায় রক্তচাপ দেহের অভ্যন্তরে রক্তসঞ্চালন চালু রাখে। শুধু মৃত্যুতেই এই জীবন স্রোত থেমে যায়। উচ্চ রক্তচাপ নিজেই একটি রোগ, আবার একই সঙ্গে অন্য রোগের কারণ।

আর নিম্ন রক্তচাপ সাধারণভাবে কোনো রোগ নয়, বরং নিরাপদ।কিন্তু কিছু জটিল মুহূর্তে,যেমন,কার্ডিওজেনিক শক ও অন্যান্য শক,নিম্ন রক্তচাপ জীবনসংহারী হতে পারে।আর তাই জানতে হবে কিভাবে রক্তচাপ মাপতে হয়, কখন তাকে রোগ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে,কখন কতটা গুরুত্ব দিতে হবে।বাড়িতে রক্তচাপ মাপা উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।ভালোভাবে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এর ভূমিকা অনস্বীকার্য। কিন্তু এ ক্ষেত্রে ভালো মানের রক্তচাপ মাপার যন্ত্র ও সঠিকভাবে রক্তচাপ মাপতে জানা দরকার।রক্তচাপ মাপার নানারকম যন্ত্র আছে।তবে পারদস্তম্ভসহ ব্লাড প্রেসার মেশিনকে আদর্শ বিবেচনা করা হয়। পারদ ম্যানোমিটারের সঙ্গে প্রপারলি কেলিব্রেটেড স্প্রিং বেসড ডায়াল ম্যানোমিটারগুলো সহজে বহনযোগ্য।কিন্তু সময়ের সঙ্গে স্প্রিংয়ের কার্যকারিতা কমে যায়।তখন এ যন্ত্রের পরিমাপ নির্ভরযোগ্য থাকে না। অটোমেটিক ব্লাড প্রেসার মেশিনকে পারদ ম্যানোমিটারের সঙ্গে যাচাই করে নিতে হবে।তবে রক্তচাপ মাপার আগে কমপক্ষে পাঁচ মিনিট শান্তভাবে চেয়ারে বসুন। পা মাটিতে আর হাত হার্টের সমান্তরালে টেবিল বা কিছুর ওপর সাপোর্টেড থাকবে। বলা হয়,যেকোনো শারীরিক সমস্যায় রক্তচাপ মাপা একটি রুটিন পরীক্ষা।ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ, গর্ভাবস্থা  এবং অন্য রোগের রুটিন ফলোআপের সময়।প্রথমবার রক্তচাপ মাপার সময় দুই হাতে মাপতে হবে। দু’ হাতে রক্তচাপের মাত্রা পার্থক্য থাকলে তা রক্তনালির রোগ নির্দেশ করবে।এখন প্রশ্ন হলো উচ্চ রক্তচাপের হওয়ার কারণ কি? উত্তর হলো বেশি বয়স,ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়া মহিলা,যাদের পরিবারে উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট ডিজিজ, স্ট্রোকের ইতিহাস আছে,উচ্চ মানসিক চাপ,শারীরিক পরিশ্রমের অভাব,ধূমপান,অবেসিটি বা মুটিয়ে যাওয়াএবং মদ্যপান।কিন্তু শতকরা ৯৫ জনের ক্ষেত্রেই উচ্চ রক্তচাপের কারণ পাওয়া যায় না।উচ্চ রক্তচাপ একেবারে সেরে যায় না, বরং শুধু নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। একে প্রাইমারি বা অ্যাসেনশিয়াল হাইপারটেনশন বলে।শতকরা ৫ জনের ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপ অন্য রোগের ফলে তৈরি হয়। প্রাথমিক রোগের চিকিৎসায় উচ্চ রক্তচাপ ভালো হয়ে যেতে পারে। যেমন,কিডনি রোগ, হরমোনজনিত রোগ মানে থাইরয়েড ডিজিজ, কুশিং ডিজিজ ইত্যাদি।রক্তনালির রোগ মানে কো-আর্কটেশন, রেনাল আর্টারি স্টেনসিস, গর্ভাবস্থা প্রভৃতি। একে সেকেন্ডারি হাইপারটেনশন বলে। তবে গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপকে বিশেষ গুরুত্ব সহকারে চিকিৎসা করতে হবে। কারণ এখানে মা ও সন্তান দুজনের জীবন ঝুঁকিতে থাকে। এর বাইরে অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপের জন্য হার্ট অ্যাটাক মানে মায়োকার্ডিয়াল ইনফারকশন,হার্ট ফেইলিওর বা ব্রেন স্ট্রোক,গর্ভাবস্থায় একলাম্পশিয়া বা প্রি-একলাম্পশিয়া, মৃত বাচ্চা প্রসব,চোখের রোগ,রক্তনালির রোগ,নাক দিয়ে রক্ত পড়ার সমস্যা হয়।এখন ঘটনা হলো সাধারণভাবে উচ্চ রক্তচাপের কারণে কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না। তবে কারো কারো মাথা ব্যথা, মাথা ভারী ভাব, মাথার পেছনের দিকে ব্যথা হতে পারে।

More News

শিশু কি প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাচ্ছে ?

0
শরীরের উচ্চতার চেয়ে মাত্রাতিরিক্ত ওজনকে ভয়াবহ বিপদসংকেত হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। শিশুদের জন্যও এটি...

ঘুমালে কমবে হৃদরোগের ঝুঁকি 

0
দ্রুত গতির জীবনযাত্রায় এখন অভ্যস্ত আমরা প্রায় সবাই।মাঝেমাঝেই রেস্তরাঁর খাবার খাওয়া, অত্যধিক রাত করে ঘুমানো,...

থাইরয়েড : লক্ষণ দেখলেই পরীক্ষা জরুরি

0
এখন মানুষের শরীরে একাধিক জটিল রোগের বাসা বাঁধার প্রবণতা বাড়ছে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, হার্টের...