
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুই ভাই সুস্থ হলেই খুনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হবে। এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ।
তদন্তে জানা গিয়েছে পরিকল্পনা করেই খুনের চক্রান্ত করা হয়েছে। দে পরিবারের আর্থিক অনটনের কারণে ১০ ফেব্রুয়ারি আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয় দুই ভাই। বিষয়টি ১২ তারিখ তাঁদের স্ত্রীদের জানায়। বাড়ির স্ত্রীরও সেই সিদ্ধান্তে সহমত হয়। যদিও বাড়ির ছোটদের বিষয়টি জানানো হয়নি। এরপরেই প্রচুর ঘুমের ওষুধ, প্রেসারের ওষুধ নিয়ে আসে। এরপরেই ১৭ তারিখ রাতে ওষুধ মেশানো পায়েস খায় বাড়ির সবাই। ছোটরা যাতে মেডিসিনের গন্ধ ঢাকতে পায়েসের মধ্যে তুলসি পাতা মেশানো হয়। এরপর যে যার ঘরে চলে যায় ঘুমোতে। কিন্তু ১৮ তারিখ সকালে বড় ভাই প্রণয় এবং ছোট ভাই প্রসূনের দুজনেরই ঘুম ভেঙে যায়। কিন্তু তখনও তাদের স্ত্রীরা ঘুমের ঘরে ছিলেন। ছোট ভাই জানায় মেয়ে প্রিয়ংবদা গোঙাচ্ছে। এরপরেই প্রিয়ংবদাকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়। এরপর দুই স্ত্রীকে হাতের শিরা কেটে, গলা কেটে খুন করে। পরবর্তীতে ছেলের হাতের শিরা কাটতে গেলে জ্ঞান ফিরে আসে প্রতীপের। তারপর ছেলেকে নিয়ে ৩ তলায় চলে যায় দুইভাই। ১৮ তারিখ সারাদিন ওই তিনতলাতেই কাটিয়েছিল তিনজন। ফোন আসায় পাওনাদের জানানো হয় বাড়িতে রেড হতে পারে কেউ যাতে না আসে। এরপর মোবাইল ফোন সুইটড অফ করে দেন দুই ভাই। এরপর ১৮ তারিখ রাতে দুই ভাই সিদ্ধান্ত নেয় লরির সঙ্গে ধাক্কা মেরে আত্মঘাতী হবেন। কিন্তু লরির চালক ফেঁসে যাবেন বলে সিদ্ধান্ত বদল হয়। ছেলেকে হাসপাতালে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু প্রতীপ তাতে রাজি হয়নি এরপর বাইপাসে অভিষিক্তার মেট্রোর পিলারে ধাক্কা মেরে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেন তাঁরা।
মৃত্যু নিশ্চিত করতে পিলারে ধাক্কা মারার ২০০ মিটার আগে সিট বেল্ট খুলে ফেলে সবাই। হাসপাতালে ভর্তি ২ ভাইকে জেরা করে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারী অফিসাররা।
