
ডায়াবেটিস এখন বিশ্বজুড়ে মহামারির রূপ নিয়েছে।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী,বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮৩ কোটি মানুষ এই দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত।ডায়াবেটিস শুধু রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার নাম নয়, এটি ধীরে ধীরে হৃদযন্ত্র, কিডনি, চোখ, স্নায়ুতন্ত্রসহ শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়ম মেনে জীবনযাপন করলে মাত্র ৫টি অভ্যাসের মাধ্যমে ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।এই অবস্থায় সঠিক খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা খুব জরুরি।শুধু চিনিমুক্ত খাবার নয় বরং পরিমিত ও সঠিক সময়ে সুষম খাদ্য গ্রহণই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।লো গ্লাইসেমিক ইনডেক্সযুক্ত খাবার যেমন ওটস, ডালিয়া, শাকসবজি, টক দই, ডাল খাদ্যতালিকায় রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদরা।সেইসঙ্গে,প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট শরীরচর্চা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর।হাঁটা,সাঁতার,দৌড়,যোগব্যায়াম বা হালকা ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ,যার যা সুবিধাজনক, সেটিই নিয়মিতভাবে করা উচিত।পাশাপাশি,পর্যাপ্ত জল পান শরীর থেকে অতিরিক্ত শর্করা প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেয়, যা কিডনির কার্যকারিতাও বজায় রাখে। বিশেষ করে গরমের দিনে ডায়াবেটিক রোগীদের বেশি করে জলপান জরুরি।অন্যদিকে,রাতে ৭-৮ ঘণ্টার ঘুম ইনসুলিন হরমোনকে স্বাভাবিক রাখে এবং কর্টিসল হরমোনের মাত্রা কমায়।ফলে রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে। ঘুমের ব্যাঘাত ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রণকে কঠিন করে তোলে।
পাশাপাশি, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ চালিয়ে যেতে হবে।ইচ্ছেমতো ওষুধ বন্ধ করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। একইসঙ্গে নিয়মিত রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা পরীক্ষা করে নজর রাখা জরুরি।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে জীবনধারাই মূল চাবিকাঠি। সচেতনতা ও দায়িত্বশীল অভ্যাসই হতে পারে সুস্থ জীবনের নিশ্চয়তা।








