
রমজান মাসে নানা কারণে অনেক অসুস্থ ব্যক্তি রোজা রাখতে পারেন না। এর মধ্যে ডায়াবেটিক রোগীরা অন্যতম।এই অবস্থায় ডায়াবেটিক রোগীরা রোজা রাখতে হলে রমজানের তিন মাস আগে থেকে সুগার কন্ট্রোলে রাখার চেষ্টা করা ভালো।না হলে হাইপোগ্লাইসেমিয়া হতে পারে। আর যাদের সুগার কন্ট্রোলে থাকে তারা নিয়ম মেনে রোজা রাখতে পারবেন।সাধারণত ডায়াবেটিক রোগীদের দিনে ছ’ বেলা খাবার গ্রহণ করতে বলা থাকলেও রমজানে খাওয়ার সময় পাওয়া যায় তিন বেলা।
রোজার সময় সাহরিতে কম খেয়ে ইফতারিতে বেশি খাওয়া যাবে না।সে জন্যে,খাবারের পরিমাণে ভারসাম্য থাকা জরুরি।যেমন,সাধারণত সারা দিন রোজা রাখার পর শরীরে জলের অভাব দেখা যায়। তাই একেবারে বেশি পরিমাণে জল পান করা যাবে না। ইফতারে জলশূন্যতা এড়াতে ডায়াবেটিক রোগীরা খেতে পারেন ডাবের জল, ইসবগুলের শরবত,টক দইয়ের লস্যি, চিনি ছাড়া লেবুর শরবত, কাঁচা আমের জুস ইত্যাদি।আর,যাদের অ্যাসিডিটির সমস্যা আছে তারা প্রথমে টকজাতীয় শরবত না খেয়ে সবজির স্যুপ বা সবজির জুস খেতে পারেন।এ ছাড়া ইফতারের খাবার হতে হবে সকালের খাবারের সমান। যা সারা দিনের মোট খাবারের ৩ ভাগের ১ ভাগ।ইফতারে বেছে নিতে পারেন কাঁচা ছোলা সিদ্ধর সাথে আদা, টমেটো, পুদিনা ও অল্প লবণ মিশিয়ে মুড়ি মাখানো।আরো খেতে পারেন দইচিড়া, নরম খিচুড়ি, লাল আটার রুটি, লাল চালের ভাত, শসার রায়তা, ডিম সেদ্ধ, সাবুদানা মেশানো স্যুপ, মিক্সড ফল বা ফলের সালাদ।
সেই সঙ্গে,ইফতারে ভাজা,তৈলাক্ত খাবার বাদ দিতে হবে।রাতের খাবারে হালকা কিছু খেতে পারেন। হালকা মসলা দিয়ে রান্না করা ছোট মাছ, মুরগি, মাংস, সবজি, ডাল, শিমের বিচি, সামুদ্রিক মাছ খেতে পারেন। এ ছাড়া লাল আটার রুটি, চিড়া, মুড়ি, খই, ওটস, যেকোনো একটি পরিমাণমতো খেতে পারেন। পাশাপাশি,সাহরিতে আমিষ জাতীয় খাবারের মধ্যে মাছ, মুরগি, ডিম বেছে নিতে পারেন। মাংস ও ডাল না খাওয়াই ভালো।
