শুক্রাণুর মাধ্যমে সন্তানের দেহে রোগ

0
118
ছবি সৌজন্যে : রিপ্রেসেন্টেশনাল

সাধারণত আমাদের মধ্যে অনেকেই মানসিক চাপকে গুরুত্ব দিই না। কিন্তু এই মানসিক চাপ শুধু নিজের ওপরই নয়, প্রভাব ফেলতে পারে আপনার সন্তানের ওপরেও।

এটি আচরণ, দেখাদেখি বা শিক্ষা থেকে হয় না, বরং সরাসরি জৈবিকভাবে পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে সঞ্চারিত হতে পারে। এক গবেষণা এমনটাই জানিয়েছেন গবেষকরা।সেখানে দেখা যায়, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপে থাকা পুরুষ ইঁদুরের শুক্রাণুর মধ্যে থাকা বিশেষ মলিকিউল বা অণুর মাধ্যমে তাদের সন্তানদের মধ্যেও মানসিক চাপ সংক্রান্ত বৈশিষ্ট্য সঞ্চারিত হয়েছে।আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই প্রক্রিয়ায় তাদের ডিএনএ-র গঠনে কোনো পরিবর্তন ঘটেনি।গবেষণা বলছে, মানসিক চাপ জিনের গঠন পাল্টে দেওয়ার পরিবর্তে শুক্রাণুতে থাকা ক্ষুদ্র নন-কোডিং আরএনএ-এর মাত্রা পরিবর্তন করে দেয়। এই আরএনএ অণুগুলোই নিষিক্ত হওয়ার পর ভ্রূণের প্রাথমিক বিকাশ এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করে।এর ফলেই সন্তানদের মধ্যে মানসিক চাপের প্রভাব সঞ্চারিত হয়। এখন প্রশ্ন হল,কিভাবে এই চাপ সঞ্চারিত হয়।মানসিক চাপে থাকা পুরুষ ইঁদুরদের শুক্রাণুতে নির্দিষ্ট নয়টি মাইক্রো-আরএনএ-এর মাত্রা বেশি থাকে। এই অণুগুলো একপ্রকার সংকেত হিসেবে কাজ করে, যা নিষিক্ত হওয়ার পর জিনের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করে।বিজ্ঞানীরা যখন এই নির্দিষ্ট আরএনএগুলোকে সুস্থ ইঁদুরের ভ্রূণে ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রবেশ করান, তখন দেখা যায়, জন্ম নেওয়া সন্তানদের মানসিক চাপ মোকাবিলার ক্ষমতা পরিবর্তন হয়েছে।তারা চাপের প্রতি অনেক কম সংবেদনশীল ছিল এবং তাদের মধ্যে উদ্বেগজনিত আচরণেও ফারাক রয়েছে।মস্তিষ্কের বিকাশ,ওই সন্তানদের মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অংশে জিনের কার্যকারিতায় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। মস্তিষ্কের এই অংশটিই মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য দায়ী। মস্তিষ্কের গঠন ও ব্লাড-ব্রেন ব্যারিয়ারের সঙ্গে যুক্ত জিনেও এই পরিবর্তন ধরা পড়ে।শুক্রাণুর মধ্যে থাকা এই পরিবর্তিত আরএনএ নিষিক্ত হওয়ার পরেই দ্রুত কাজ শুরু করে।এটি মাতৃ-আরএনএ-কে নষ্ট করে দেয় এবং মস্তিষ্কের বিকাশে দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন ঘটায়।সব মিলিয়ে এই গবেষণা প্রমাণ করে, ডিএনএ-র পরিবর্তন ছাড়াই বাবার অভিজ্ঞতা পরবর্তী প্রজন্মকে প্রভাবিত করতে পারে।

মানসিক চাপ শরীরে এক ধরনের জৈবিক ছাপ রেখে যায়। এটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে উত্তরাধিকার সূত্রে শুধু জিনই মেলে না, শরীর তার নিজের অভিজ্ঞতাও পরবর্তী প্রজন্মে বয়ে নিয়ে চলে।