
এখন দিনভর ব্যস্ততার কারণে অনেক বিষয় নিয়ে ভাবার সময় হয় না। কিন্তু রাত গভীর হলে, বিশেষ করে মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেলে, হঠাৎ করেই নানা চিন্তা মাথায় আসতে শুরু করে। কাজের চাপ, ভবিষ্যতের পরিকল্পনা, পারিবারিক বিষয় কিংবা দিনের অসমাপ্ত কাজ, সবকিছু যেন একসঙ্গে মনে পড়তে থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে রয়েছে ঘুমের স্বাভাবিক চক্র এবং মস্তিষ্কের কার্যক্রমের পরিবর্তন। এখন প্রশ্ন হলো মাঝরাতে ঘুম ভাঙে কেন? উত্তর হলো,ঘুম একটানা একই রকম থাকে না। রাতের প্রথম অংশে গভীর ঘুম বেশি হলেও ভোরের দিকে ঘুম হালকা হয়ে আসে। এ সময় স্বপ্ন দেখার পর্যায়ও বেশি থাকে। ফলে সামান্য শব্দ, আলো বা অস্বস্তিতেও ঘুম ভেঙে যেতে পারে। এবার প্রশ্ন হলো, কেন আসে নানা চিন্তা? উত্তর হলো, রাতের বেলায় চারপাশ অনেকটাই শান্ত থাকে। দিনের মতো তখন আর কাজ, কথা বা অন্য কোনো ব্যস্ততা থাকে না। ফলে মস্তিষ্ক ভেতরের নানা বিষয় নিয়ে ভাবতে শুরু করে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সময়ে অসমাপ্ত কাজ, আগামী দিনের পরিকল্পনা কিংবা ব্যক্তিগত নানা বিষয় সহজেই মনে চলে আসতে পারে। অনেক সময় দিনের বেলায় তেমন গুরুত্ব না পাওয়া বিষয়ও রাতে বেশি মনে হতে পারে। হরমোনেরও আছে ভূমিকা। ভোরের আগে শরীরে কর্টিসল নামের একটি হরমোনের মাত্রা ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে। এটি শরীরকে জেগে ওঠার জন্য প্রস্তুত করে। ফলে মাঝরাতে ঘুম ভাঙলে মস্তিষ্কও তুলনামূলক বেশি সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।
এছাড়া যেসব কারণে সমস্যা বাড়তে পারে তার মধ্যে আছে, ঘুমানোর আগে দীর্ঘ সময় মোবাইল ব্যবহার, দেরিতে খাবার খাওয়া, অতিরিক্ত চা বা কফি পান, অনিয়মিত ঘুমের অভ্যাস, মানসিক চাপ ও ক্লান্তি। এবার প্রশ্ন কী করবেন? উত্তর হলো, প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যান। ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকুন। রাতে হালকা খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। মাঝরাতে ঘুম ভাঙলে বারবার ঘড়ি বা ফোন দেখবেন না। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঝে মধ্যে রাতে ঘুম ভেঙে যাওয়া স্বাভাবিক। তবে নিয়মিত এমন হলে এবং ঘুমে প্রভাব ফেললে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
