গাড়িতে উঠলেই বমি? 

0
39
ছবি সৌজন্যে :  রিপ্রেসেন্টেশনাল 

গাড়িতে বা অন্য কোনো যানবাহনে চলার সময় বমি বমি ভাব হওয়া অনেকের কাছেই পরিচিত একটি সমস্যা। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে বলা হয় মোশন সিকনেস।বাস, গাড়ি, ট্রেন, জাহাজ কিংবা উড়োজাহাজ,সব ধরনের যাত্রাতেই এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।

অনেক সময় পাহাড়ি বা উঁচু-নিচু রাস্তায় ঝাঁকুনির কারণে এটি আরো বেড়ে যায়।এদিকে মোশন সিকনেস হলো এমন একটি শারীরিক অবস্থা, যেখানে চলন্ত অবস্থায় মাথা ঘোরা, অস্বস্তি, মাথাব্যথা এবং বমি বমি ভাব দেখা দেয়। কিছু ক্ষেত্রে তা শেষ পর্যন্ত বমিতেও রূপ নেয়।চিকিৎসকদের মতে, এই সমস্যা সবার ক্ষেত্রে একরকম নয়। কেউ যাত্রা শুরু করলেই অসুস্থ বোধ করেন, আবার কারও দীর্ঘ সময় পর উপসর্গ দেখা দেয়।আসলে,ভ্রমণের সময় আমাদের চোখ, কান এবং শরীর একই সময়ে মস্তিষ্ককে পৃথকভাবে সংকেত পাঠায়। আর এই অসামঞ্জস্য থেকেই সমস্যা শুরু হয়।কেউ যদি গাড়িতে বসে বই পড়েন বা নিচের দিকে তাকান, তখন চোখ মস্তিষ্ককে জানায় যে সেই ব্যক্তি স্থির আছেন।কিন্তু একই সময়ে তার কানের ভেতরের ব্যালেন্স সিস্টেম বলে শরীর আসলে চলমান অবস্থায় আছে।এই দুই সংকেতের মধ্যে বিরোধ তৈরি হলে মস্তিষ্ক বিভ্রান্ত হয়। এই বিভ্রান্তিকে শরীর অনেক সময় বিষক্রিয়ার মতো ধরে নেয়। ফলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে বমির প্রক্রিয়া শুরু হয়।বিশেষজ্ঞদের মতে, মোশন সিকনেসের মূল কারণ হলো শরীরের ভারসাম্য ব্যবস্থার গোলমাল।ওদিকে আমাদের কানের ভেতরের ভেস্টিবুলার সিস্টেম শরীরের অবস্থান ও নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করে। চোখ, পেশি ও অন্যান্য অঙ্গ থেকেও একই তথ্য মস্তিষ্কে যায়। আরেকটি বিষয় হলো শরীরের অভ্যন্তরীণ তরলের নড়াচড়া। চলমান অবস্থায় মস্তিষ্কের ভেতরের তরল নড়ে গিয়ে চাপ তৈরি করতে পারে, যা ভারসাম্য ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে।এ ছাড়া খালি পেটে বা খুব ভারী খাবার খেয়ে ভ্রমণ করলেও সমস্যা বাড়তে পারে। ভেগাস নার্ভ অতিরিক্ত সক্রিয় হলে বমি হওয়ার প্রবণতা আরো বেড়ে যায়। তাই চিকিৎসকেরা সাধারণত ভ্রমণের আগে হালকা খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন।তবে মোশন সিকনেস সবার ক্ষেত্রে একই রকম হয়না। উঁচু-নিচু রাস্তা,গাড়ির দ্রুত গতি, গন্ধ, বা দীর্ঘ সময় একটানা যাত্রা,সবই এর উপসর্গ বাড়াতে পারে। কখনো এটি শুধু সাধারণ অস্বস্তিতে সীমাবদ্ধ থাকে, আবার কখনো তীব্র বমিতে রূপ নেয়।বিশেষজ্ঞরা বলেন, দীর্ঘদিন ঘন ঘন এমন সমস্যা হলে সেটি অন্য শারীরিক সমস্যার লক্ষণও হতে পারে। বিরল ক্ষেত্রে এটি স্নায়বিক রোগ বা ব্রেন টিউমারের সঙ্গেও সম্পর্ক থাকতে পারে।এখন প্রশ্ন হলো,কিভাবে এড়ানো যায়? চিকিৎসকদের মতে, কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করলে মোশন সিকনেস অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। যেমন ভ্রমণের আগে ভারী খাবার না খাওয়াই ভালো। তবে একেবারে খালি পেটে যাত্রা করাও ঠিক নয়। তাই হালকা খাবার খাওয়া সবচেয়ে ভালো।সেইসঙ্গে চলন্ত অবস্থায় বই পড়া বা মোবাইলে বেশি মনোযোগ দেওয়া এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ এতে চোখ ও কানের সংকেতের অসামঞ্জস্য আরো বাড়ে।এর বাইরে জানালা দিয়ে দূরের দিকে তাকানো এর একটি ভালো সমাধান। কারণ এতে চোখ ও মস্তিষ্ক একই ধরনের তথ্য পায়।চলন্ত যানবাহনে ঘুমিয়ে পড়াও অনেক সময় সমস্যা বাড়াতে পারে।

সম্ভব হলে সামনে দিকে মুখ করে বসা বা ড্রাইভিং সিটের কাছাকাছি থাকা ভালো।চিকিৎসকের পরামর্শে প্রয়োজন হলে বমি প্রতিরোধী ওষুধও ব্যবহার করা যেতে পারে।