গ্রাম থেকে শহর
News & Much More

34 C
Kolkata
34 C
Kolkata
More
    Home Lifestyle ধীরে খেলে কি স্ট্রেস কমে? 

    ধীরে খেলে কি স্ট্রেস কমে? 

    0
    66
    ছবি সৌজন্যে : রিপ্রেসেন্টেশনাল 

    আজকের যে দ্রুতগতির পৃথিবীতে আমরা বাস করি, সেখানে খাওয়ার জন্য সময়-ই বা কার আছে? সবাই ছুটছে কোথাও পৌঁছাতে,কোনো লক্ষ্য অর্জন করতে, বা নিজের আশপাশের মানুষদের চেয়ে আরো সফল হতে। এই দৌড়ঝাঁপের মাঝে আমরা অনেক সময় খাবারদাবার বাদ দিয়ে দিই, কিংবা এত দ্রুত খেয়ে ফেলি যে তা কয়েক মিনিটে খাবার গিলে ফেলার মতোই  হয়ে যায়।

    কাজের চাপ এত বেশি যে প্লেটে কী আছে, তা উপভোগ করার সময়ও থাকে না।দ্রুত খাওয়া সময় বাঁচালেও এর বেশ কিছু অসুবিধা আছে।এদিকে স্কুল-জীবনে আমরা পড়েছি, খাবার ২০–৩২ বার চিবাতে হয়। কিন্তু এই ব্যস্ত জীবনে তা যেন কাজের তালিকা থেকে আরেকটি কাজ সেরে ফেলার মতোই হয়ে গেছে।আসলে যখন আপনি দ্রুত খান, খাবার বড় বড় টুকরো হয়ে পেটে যায়। যার ফলে হজম অনেক কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।এতে গ্যাস হয়,এনজাইমের কাজ ধীর হয়ে যায় এবং গাঁট–ব্রেইন যোগাযোগেও ব্যাঘাত ঘটে।ধীরে খেলে খাবার মুখে বেশি সময় থাকে, ফলে সঠিকভাবে চিবানো হয় এবং লালা খাবারের সঙ্গে ভালোভাবে মেশে। এতে পেট ভালোভাবে কাজ করতে পারে এবং হজম এনজাইমের সঙ্গে খাবার সঠিকভাবে মিশে।একইসঙ্গে ধীরে খাওয়া গাটকে মস্তিষ্কে সংকেত পাঠানোর সময় দেয়, যা ভেগাস নার্ভের মাধ্যমে ঘটে।এটি ক্ষুধা ও তৃপ্তি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।পাশাপাশি,ধীরে খাওয়া কিভাবে এসিডিটি ও হজমের সমস্যায় উপকার করে।ধীরে খেলে স্বাভাবিকভাবেই কম বাতাস ঢোকে, যা ফোলাভাব কমায়। সঠিকভাবে চিবানো খাবার দ্রুত হজমে সাহায্য করে এবং অন্ত্রে ফারমেন্টেশন প্রতিরোধ করে। আর এই ফারমেন্টেশনই গ্যাসের কারণ।একইসঙ্গে ধীরে খাওয়া অতিভোজনের সম্ভাবনা কমায়।পেট ভরে গেলে অতিরিক্ত অ্যাসিড ওপরে উঠে ইসোফেগাসে যাওয়ার ঝুঁকিও কমে, ফলে হর্টবার্ন বা বুকজ্বালার সমস্যা কমে।সবাই জানেন,মস্তিষ্ক ও অন্ত্রের মধ্যে একটি যোগাযোগ ব্যবস্থার নাম গাঁট-ব্রেইন অ্যাক্সিস। এটি এন্ডোক্রাইন হরমোন, নার্ভাস ও ইমিউন সিস্টেম নিয়ে গঠিত। ধীরে খেলে গাঁট-ব্রেইন অ্যাক্সিসে প্রভাব পড়ে। এতে জিএলপি-১ ও পিওয়াইওয়াই–এর মতো তৃপ্তি-হরমোন স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়।এই হরমোনগুলো মস্তিষ্ককে জানায় যে আপনার পেট ভরে গেছে। ফলে অতিভোজন কমে। ধীরে খেলে খিদে-হরমোন ঘ্রেলিনও ধীরে ধীরে কমে।

    যখন দ্রুত খাওয়া হয়, এই সংকেতগুলো সঠিকভাবে পৌঁছায় না। ফলে মস্তিষ্ক পেট ভরে গেছে বার্তা সময়মতো পায় না, এতে অতিরিক্ত খাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।