ধর্ম বদল করলেই সংরক্ষণের সুবিধা শেষ?

0
89
ছবি সৌজন্যে :  রিপ্রেসেন্টেশনাল 

ধর্মান্তর এবং সংরক্ষণ,রাজনীতি ও সমাজে বহুদিনের বিতর্কিত দুই বিষয়কে এক সুতোয় বেঁধে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, হিন্দু, শিখ বা বৌদ্ধ ধর্ম ছাড়া অন্য কোনও ধর্ম গ্রহণ করলে আর তফসিলি জাতি হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া যাবে না।

এই রায় শুধু একটি মামলার নিষ্পত্তি নয়, বরং সংরক্ষণ নীতি, ধর্মীয় পরিচয় এবং সাংবিধানিক কাঠামো নিয়ে বৃহত্তর আলোচনার পথ খুলে দিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত স্পষ্ট ও কঠোর—তফসিলি জাতির মর্যাদা শুধুমাত্র হিন্দু, শিখ ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য প্রযোজ্য। অন্য ধর্ম—বিশেষত খ্রিস্টান বা ইসলাম গ্রহণ করলে সেই মর্যাদা আপনাআপনিই বাতিল হয়ে যায়। এই বিধান সংবিধানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। শীর্ষ আদালত আরও জানিয়েছে, ধর্মান্তরিত ব্যক্তি আর এসসি-এসটি অত্যাচার প্রতিরোধ আইনের সুরক্ষাও দাবি করতে পারবেন না।এই মামলার কেন্দ্রে ছিলেন তফসিলি সমাজের এক ব্যক্তি। জন্মসূত্রে তিনি তফসিলি জাতির মানুষ হলেও পরে খ্রিস্ট ধর্ম গ্রহণ করেন এবং দীর্ঘদিন পাদ্রি হিসেবে কাজ করেন। তাঁর দাবি ছিল, তাঁকে জাতিগতভাবে অপমান ও আক্রমণ করা হয়েছে। সেই অভিযোগে তিনি তফসিলি জাতি ও উপজাতি আইনে মামলা দায়ের করেন। কিন্তু অভিযুক্ত পক্ষ আদালতে যুক্তি দেয়,ধর্মান্তরিত হওয়ায় তাঁর আর তফসিলি জাতির অধিকার প্রযোজ্য নয়। অন্ধ্রপ্রদেশ হাই কোর্ট আগেই বলেছিল, খ্রিস্টান ধর্মে বর্ণব্যবস্থা নেই, ফলে এসসি পরিচয় দাবি করা যাবে না।

সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যান আবেদনকারী। সুপ্রিম কোর্ট হাই কোর্টের সিদ্ধান্তই বহাল রাখে। বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র ও এনভি অঞ্জারিয়া বলেছেন,আবেদনকারী দীর্ঘদিন খ্রিস্টান ধর্ম পালন করছেন। নিয়মিত প্রার্থনা সভা পরিচালনা করছেন। কোথাও তিনি পুনরায় পূর্ব ধর্মে ফেরার দাবি করেননি। এই সব তথ্য থেকেই স্পষ্ট,ঘটনার সময়ে তিনি খ্রিস্টান ছিলেন, ফলে এসসি মর্যাদা দাবি করা আইনসঙ্গত নয়।