শুষ্ক বাতাস থেকে খাওয়ার জল

0
68
ছবি সৌজন্যে : এক্স

বর্তমানে তীব্র জল সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্ব। ঠিক তখনই আশার আলো নিয়ে এলেন ২০২৫ সালে রসায়নে নোবেল বিজয়ী।

তার উদ্ভাবিত এ বিশেষ যন্ত্রটি মরুভূমির শুষ্ক বাতাস থেকেও সুপেয় জল তৈরি করতে পারে।নোবেল জয়ী অধ্যাপক ওমর ইয়াগির পরিবেশবান্ধব এ আবিষ্কার মানুষের জীবন বাঁচাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।এ প্রযুক্তির উদ্ভাবক বলেছেন, ঘূর্ণিঝড় বা খরার কারণে খাওয়ার জল সরবরাহ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেলে এ যন্ত্রের মাধ্যমে খাওয়ার জল পাওয়া সম্ভব, যা ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন দ্বীপের বাসিন্দাদের জন্য কার্যকর সামাধান হতে পারে।জর্ডানের এক শরণার্থী শিবিরে বেড়ে ওঠা অধ্যাপক ইয়াগি বলেছেন, ছোটবেলায় বিদ্যুৎ ও জলের সংযোগহীন ঘরে কাটানো কঠিন দিনগুলোই তাকে এ যন্ত্র আবিষ্কারে অনুপ্রাণিত করেছে।রসায়নবিদ অধ্যাপক ইয়াগির এ উদ্ভাবনে ব্যবহৃত হয়েছে রেটিকুলার কেমিস্ট্রি নামে রসায়নের এক শাখা।তিনি এমন কিছু বিশেষ উপাদানের অণু তৈরি করেছেন, যা বাতাস থেকে আর্দ্রতা শুষে নিতে ও মরুভূমির মতো শুষ্ক এলাকা থেকেও জল সংগ্রহ করতে পারে।ইয়াগির প্রতিষ্ঠিত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান,অ্যাটোকো বলেছে, তাদের এসব যন্ত্র আকারে একটি ২০ ফুট শিপিং কন্টেইনারের সমান।এগুলো পুরোপুরি সাধারণ মানের তাপ শক্তিতে চলে। খরা বা ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎ ও জল সরবরাহ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেও স্থানীয় বিভিন্ন এলাকায় এ যন্ত্র বসিয়ে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার লিটার বিশুদ্ধ জল পাওয়া সম্ভব।সাগরের লোনা জলকে স্বাদু জলতে পরিণত করার মতো প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় এ উদ্ভাবনটি পরিবেশবান্ধব ও স্থায়ী।লোনা জল পরিষ্কারের প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত লবণাক্ত বর্জ্য আবার সাগরে ফেলা হয়, যা সামুদ্রিক পরিবেশের জন্য হুমকির। তবে ইয়াগির এ পদ্ধতিতে এমন কোনো ঝুঁকি নেই।

উল্লেখ্য সম্প্রতি রাষ্ট্রসংঘের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, পৃথিবী এখন এক বৈশ্বিক জল দেউলিয়া হওয়ার দশায় প্রবেশ করেছে। বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় তিন-চতুর্থাংশই এমন সব দেশে বসবাস করছে যেগুলোকে জল অনিরাপদ বা চরম জল সংকটাপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করেছে রাষ্ট্রসংঘ।