মাদক: শাহরুখ ও জ্যাকি চ্যানের পার্থক্য

0
5

মাদককাণ্ডে ছেলে গ্রেফতারের পর থেকে মুখে কুলুপ এঁটে আছেন বাদশাহ শাহরুখ খান। জামিনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। অথচ একই ঘটনার বিপরীত দৃশ্য দেখা গিয়েছিল চীনা জনপ্রিয় অভিনেতা জ্যাকি চ্যানের ক্ষেত্রে। ছেলেকে ছাড়ানোর চেষ্টা তো করেনইনি, উল্টো ছেলের অপরাধের জন্য জনসমক্ষে ক্ষমা চেয়েছিলেন তিনি। 

ছ’মাস জেল খেটে বাড়ি ফিরেছিলেন জ্যাকির একমাত্র ছেলে।জ্যাকির ছেলের নাম জেসি চ্যান। মার্শাল আর্টিস্ট-অভিনেতা জ্যাকি চ্যান এবং তাইওয়ানের অভিনেত্রী জোয়ান লিনের ছেলে জেসি। বাবা-মার পরিচয় থেকে এটা পরিষ্কার যে সোনার চামচ মুখে দিয়েই জন্ম হয়েছিল তার।ছোট থেকে বিলাসবহুল জীবন কাটাতেই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিল জেসি।না চাইতেই হাতের মুঠোয় সব কিছু পেয়ে গেলে যা হয়, জেসির জীবনও সেই স্রোতেই বইতে শুরু করেছিল। আরিয়ানের মতো মাদকের নেশা তাকেও ছুঁয়ে ফেলেছিল।মা-বাবা অবশ্য সে খবর জানতেন না। একমাত্র ছেলে যে নেশায় ক্রমে বুঁদ হয়ে উঠছিলেন সেটা বুঝতে পারার আগে আচমকা বজ্রপাতের মতো ছেলের গ্রেফতারের খবর পান তারা।জেসিকে বেজিংয়ে তার অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বেআইনি মাদক-সহ গ্রেফতার করে পুলিশ। ২০১৪ সালের ১৮ আগস্টের ঘটনা। অ্যাপার্টমেন্টে তল্লাশি চালিয়ে তিন আউন্স মাদক বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। জেসির পাশাপাশি ওই অ্যাপার্টমেন্ট থেকে কাই কো নামে তাইওয়ানের আর এক অভিনেতাকেও গ্রেফতার করা হয়।১৪ দিন পর কাই ছাড়া পেয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু জেসি ছাড়া পাননি।মাদক মজুত রাখা এবং অন্যকে তা সরবরাহ করার অপরাধে ছ’মাস কারাদণ্ড হয় তার। আদালতে জেসি স্বীকার করেছিলেন, তিনি গত আট বছর ধরে মাদক সেবন করছিলেন।এই ঘটনা সামনে আসার পর অত্যন্ত ভেঙে পড়েছিলেন জ্যাকি। ২০০৯ সাল থেকে চীনের অ্যান্টি-ড্রাগ গুডউইল অ্যাম্বাসাডর ছিলেন জ্যাকি। তার ছেলেই মাদক-সহ ধরা পড়েছে এই বিষয়টিই সবচেয়ে আঘাত দিয়েছিল তাকে। জেসি গ্রেফতারের পর তাকে ছাড়ানোর চেষ্টা করেননি জ্যাকি। বরং ছেলের কৃতকর্মের জন্য প্রকাশ্যে সকলের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছিলেন।নিজের ৩২তম জন্মদিন কারাগারেই কাটাতে হয়েছিল জেসিকে। সে সময় নাকি তিনি প্রচুর বই পড়ে সময় কাটাতেন। ছ’মাস কারাদণ্ডের আগে আবার ১৪৮ দিন পুলিশ হেফাজতে ছিলেন তিনি।