
পৃথিবীতে যদি এমন কোনো স্থাপত্য থেকে থাকে, যা কালের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য তৈরি হয়েছে তবে তা নিশ্চিতভাবেই গিজার গ্রেট পিরামিড, যা মানুষের কল্পনা ও আকাশছোঁয়া আকাঙ্ক্ষার এক অনন্য নিদর্শন।
প্রাচীন মিশরের ওল্ড কিংডম বা, প্রাচীন সাম্রাজ্যের আমলে তৈরি হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত কত সভ্যতার উত্থান-পতন হল। তবে এ পিরামিড সময়ের চাকা পেরিয়ে একভাবেই অটল দাঁড়িয়ে রয়েছে। গবেষকেরা এখন পিরামিডের এই বিস্ময়কর স্থায়িত্বের অন্যতম কারণ খুঁজে পেয়েছেন। প্রায় ৪ হাজার ৬০০ বছর আগে ফারাও খুফুর সমাধি হিসেবে নির্মিত এ পিরামিডের ভেতরের গাঠনিক নকশা বা কাঠামো এমনভাবে তৈরি হয়েছিল, যা ভূমিকম্পের বিধ্বংসী ক্ষমতা বা শক্তি অনায়াসে সহ্য করতে পারে। পিরামিডের এ গাঠনিক ক্ষমতা পরীক্ষা করতে বিজ্ঞানীরা সিসমোমিটার ব্যবহার করেছেন, যা ভূমিকম্প পরিমাপে ব্যবহৃত হয়।এ যন্ত্রের সাহায্যে পিরামিডের ভেতরে ও আশপাশে মোট ৩৭টি জায়গায় অ্যাম্বিয়েন্ট ভাইব্রেশন বা পারিপার্শ্বিক কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে।
এ কম্পন প্রাকৃতিক শক্তি ও মানুষের নানা কর্মকাণ্ডের ফলে প্রতিনিয়ত তৈরি হওয়া এক ধরনের মৃদু ব্যাকগ্রাউন্ড কম্পন। পরীক্ষা করে দেখা গেছে, পিরামিডটি আকারে বড় ও ভেতরে জটিল নকশার হওয়া পরও এসব কম্পনের বিরুদ্ধে এর পুরো কাঠামোটি চমৎকার ও সমানভাবে স্থিতিশীল প্রতিক্রিয়া দেখায়। উল্লেখ্য, মিশরের রাজধানী কায়রোর ঠিক পাশেই গিজা নামের স্থানে এ পিরামিডটি অবস্থিত। বড় আকারের চুনাপাথরের ব্লক দিয়ে তৈরি এ পিরামিডের ভুমির প্রতিটি বাহু প্রায় ৭৫৫ ফুট ও তা প্রায় ১৩ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত।








