
অফিসের কাজের চাপ, পরিবারের সঙ্গে মনোমালিন্য কিংবা নিত্যদিনের নানা ঝামেলা,স্ট্রেস বর্তমান সময়ে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই চাপ জমতে জমতে মানুষকে ক্লান্ত-অবসন্ন করে তোলে, যার ফলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়ে উঠে।
তখন সবার মনে একই প্রশ্ন,এই মানসিক চাপ আসলে কিভাবে সামলানো যায়? গবেষকরা সম্প্রতি এমন এক সমাধান খুঁজে পেয়েছেন, যা নিত্যদিনের চাপ মোকাবিলায় কার্যকর হতে পারে। গবেষকরা দেখেছেন, দৈনন্দিন চাপ সামলানোর সেরা উপায় হলো নিজের মধ্যে নিয়ন্ত্রণের অনুভূতি তৈরি করা। এমনকি ছোট ছোট পদক্ষেপ,যা মানুষকে নিয়ন্ত্রণে থাকার অনুভূতি দেয়, সেগুলোও চাপ সামলাতে সহায়তা করে। আসলে,যেদিন মানুষ মনে করেছে তারা স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে, সেদিন তারা সমস্যার সমাধানে ৬২% বেশি পদক্ষেপ নিয়েছে,যেমন প্লাম্বারকে ফোন করা কিংবা কঠিন কোনো কথোপকথনে বসা। আর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই প্রভাব আরো বেশি কার্যকর হয়েছে। বলা হচ্ছে ,এই গবেষণা দেখাচ্ছে যে, মানুষ যত বেশি নিয়ন্ত্রণে থাকার অনুভূতি পায়, ততই নিত্যদিনের ছোটখাটো ঝামেলাগুলো সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। দৈনন্দিন জীবনে এই নিয়ন্ত্রণের সুযোগগুলো খুঁজে বের করা ও কাজে লাগানো শুধু স্ট্রেস কমায় না, দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যও ভালো থাকার জন্য সহায়ক। জানা যাচ্ছে আসলে,গবেষকরা দেখতে চেয়েছিলেন,দৈনন্দিন চাপ নিয়ন্ত্রণের অনুভূতি আসলেই চাপ কমাতে সাহায্য করে কি না। অর্থাৎ যদি চাপ নিয়ন্ত্রণের অনুভূতি চাপ কমাতে সহায়তা করে, তবে কি আমরা এটিকে একটি পরিবর্তনযোগ্য উপাদান হিসেবে কাজে লাগাতে পারি,যাতে চাপ কমে এবং সেই সঙ্গে আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য ও সার্বিক সুস্থতাও উন্নত হয়?এ জন্য ১ হাজার ৭০০ জন অংশগ্রহণকারীকে বলা হয়,গত ২৪ ঘণ্টায় তারা কী ধরনের স্ট্রেস অনুভব করেছেন এবং দিনের শেষে তা সমাধান হয়েছে কি না। অন্যদিকে, চাপের উৎস ছিল পারিবারিক বা কর্মক্ষেত্রের ঝামেলা, কাজের চাপ, অথবা পরিচিতদের সমস্যা থেকেও আসা মানসিক চাপ। প্রতিটি পরিস্থিতিতে অংশগ্রহণকারীদের জিজ্ঞেস করা হয়, তারা কতটা নিয়ন্ত্রণে ছিলেন। প্রায় ১০ বছর ধরে এই গবেষণা চলতে থাকে।ফলাফলে দেখা যায়, গবেষণার শুরুতে নিয়ন্ত্রণের অনুভূতি থাকলে অংশগ্রহণকারীরা ৬১% ক্ষেত্রে সমস্যার সমাধান করতে পেরেছেন। ১০ বছর পর একই ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫%। বলা হচ্ছে,আমাদের বয়স যত বাড়ে, ততই আমাদের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা বাড়ে এবং সেই নিয়ন্ত্রণ আমাদের চাপ মোকাবিলায় আরো দক্ষ করে তোলে। এই জায়গা থেকেই গবেষকরা বলছেন , সুখবর হলো দৈনন্দিনের চাপ নিয়ন্ত্রণ স্থায়ী কিছু নয়।
এটি বাস্তব কৌশলের মাধ্যমে শক্তিশালী করা যায়। যেমন,অগ্রাধিকার ঠিক করা, বা নিজের নাগালের ভেতরের বিষয়গুলোকে নতুনভাবে দেখা। আমাদের ভাবতে হবে, কিভাবে এমন পরিবেশ তৈরি করা যায়, যাতে মানুষ আরো বেশি নিয়ন্ত্রণে থাকার অনুভূতি পায়।
