গ্রাম থেকে শহর
News & Much More

33 C
Kolkata
33 C
Kolkata
More
    Home Lifestyle অবিরাম ফোন স্ক্রলিং,মুক্তির উপায়

    অবিরাম ফোন স্ক্রলিং,মুক্তির উপায়

    0
    781
    ছবি  সৌজন্যে : রিপ্রেসেন্টেশনাল 

    একটা কুকরের ভিডিও, তারপর পুরনো এক বন্ধুর সমুদ্রপাড়ে তোলা ছবি, তারপর একটা ভিডিও মিম, তারপর একটা খবরের ভিডিও, তা-ও পৃথিবীর অন্য প্রান্তের…পছন্দ হলে দেখো, ভালো না লাগলে এড়িয়ে যাও।

    স্ক্রিনজুড়ে আঙুল চালিয়ে যাওয়া আমাদের অনেকেরই দৈনন্দিন জীবনের অংশ। হয়তো লিফটে নামতে নামতে কয়েক সেকেন্ডের জন্য কিংবা ঘুমানোর আগে একবার হাতে নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার। কিন্তু স্ক্রলিং এমন আসক্তিকর কেন? স্নায়ুর ওপর এটা কী প্রভাব ফেলে? কিভাবে এই সমস্যা ঠেকানো যায়?লিডস বেকেট ইউনিভার্সিটির সাইকোলজি বিভাগের সিনিয়র লেকচারার এইলিশ ডিউকের মতে, প্রথমে যেটা বুঝতে হবে, ফোন হাতে নিয়ে স্ক্রিন অন করা, তারপর স্ক্রলিং চালিয়ে যাওয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে একের পর এক ঘটে যায়।আমরা ব্যাপারটা টেরও পাই না। কারণ অনেক দিন ধরে এই অভ্যাসটা গড়ে উঠেছে। এটা অনেকটা বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় দরজা বন্ধ করার মতো। এতে অংশগ্রহণকারীদের ধারণা ছিল, তারা প্রতি ১৮ মিনিটে একবার করে তাদের ফোন চেক করেন। কিন্তু স্ক্রিন রেকর্ডিং ব্যবহার করার পর দেখা যায়, আরো ঘন ঘন ফোন হাতে তুলে নেন তারা।আসলে,স্ক্রিনের আলোটা জ্বলে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই সেলফোন অ্যাপ্লিকেশনগুলোর অত্যাধুনিক ডিজাইন আর মস্তিষ্কের মধ্যে একটা মেলবন্ধন রচিত হয় যেন, যা মস্তিষ্ককে সক্রিয় করে তোলে। অধ্যাপক আরিয়েন লিংয়ের মতে, স্ক্রলিংয়ের মতো অভ্যাসের জন্য আমরা মানুষের স্বভাবকে দায়ী করা হয় বটে, কিন্তু পরিবেশগত কারণেও এই অভ্যাসের মাত্রা বৃদ্ধি পায়।অধ্যাপক লিংয়ের ব্যাখ্যা, মানুষ স্বভাবগত কারণেই কৌতূহলী। চারপাশে কী ঘটছে, জানার আগ্রহ প্রবল তার। সেই কারণেই মানুষ খবর পড়ে,রাস্তায় দুর্ঘটনা দেখলে থামে। এটা বিবর্তনেরই অংশ,যার কারণে মানবজাতি টিকে আছে। আর সেলফোন নির্মাণই করা হয়েছে এমনভাবে, যেন আমাদের প্রয়োজনীয় সব তথ্য নিরবচ্ছিন্নভাবে সরবরাহ করে যেতে পারে।সেইসঙ্গে আমাদের মস্তিষ্ক পুরস্কারপ্রিয়। স্নায়ুতন্ত্রের নির্দিষ্ট কিছু স্থানের কাজই যৌনতা, মাদক, জুয়ার মতো আনন্দের অনুভূতি নিয়ে। একবার তেমন সুখানুভূতি পেলে বারবার মস্তিষ্ক এটা পেতে চায়। অধ্যাপক ডিউক ব্যাখ্যা করেছেন,আমরা যদি কিছু সত্যিই উপভোগ করে থাকি, আমাদের মস্তিষ্ক সেই অভিনব অনুভূতিটা চায়, সেই সুখের অনুভূতি চায়।এটি মস্তিষ্কের রিওয়ার্ড সিস্টেম বা,পুরস্কারব্যবস্থা নামে পরিচিত। ঠিক এই প্রক্রিয়াটিই কোনো ব্যক্তিকে অ্যালকোহলের মতো দ্রব্যে আসক্ত করে তোলে।অনেকের ক্ষেত্রেই, ফোন তেমন অভিনবত্ব নিয়ে আসে। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় সব সময়ই কিছু না কিছু সুখদায়ী উপাদান থাকে,একটি ছবি, ভিডিও, টুইট বা মেসেজ।কিন্তু মস্তিষ্কের আরেকটা অংশ আছে, যে সুখানুভূতি ও তাৎক্ষণিক পুরস্কারের এই প্রবণতা ঠেকাতে চায়। সামনের দিকের এই অংশের নাম,প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স। এই অংশটি আবেগপ্রবণতাকে রুখে দিয়ে,ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ভূমিকা রাখে।এর কারণেই আপনি স্ক্রলিং থামাবেন কিংবা চেয়ারে অলস বসে না থেকে ঘরদোর পরিষ্কারের মতো কাজ শুরু করবেন।এই যে মস্তিষ্কের দু’ ধরনের কাজকর্ম, এগুলোর মধ্যে সব সময় ভারসাম্য বজায় থাকে না। অধ্যাপক ডিউকের ভাষ্য,যারা মোবাইল স্ক্রিনে ডুবে থাকেন, তাদের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের যুক্তিনির্ভর অংশ যেটা আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে, সেটা ঠিকঠাক কাজ করে না। সুখানুভূতির আকাঙ্ক্ষায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। তরুণদের ক্ষেত্রে এটা বেশি হয়।কিশোর-তরুণদের রিওয়ার্ড সার্কিট সব সময় প্রস্তুত হয়ে থাকে, যেন একটা সতর্কাবস্থা। কিন্তু ২৩-২৪ বছরের আগে প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স অপরিণত অবস্থায় থাকে। ফলে কিছু আবেগ সামাল দিতে পারে না। যেমন ফোনের নেশা।এই অবস্থায় স্ক্রলিংয়ের সময় মানুষ একটা প্রবাহর মধ্যে ঢুকে যায় বলে মনে করা হয়।

    সাইকোলজিতে ফ্লো বা,ফ্লো স্টেট বলতে এমন অবস্থা বোঝায়, যখন কেউ কোনো কাজে পুরোপুরি মগ্ন হয়ে যেতে পারে।টিকটকের মতো অ্যাপগুলোর অ্যালগরিদমে ক্রমাগত পরিবর্তন ঘটতে থাকে।ইউজারের আগ্রহ অনুযায়ীই তাতে কন্টেন্ট দেওয়া হয়। ফলে তার মনোযোগ পুরোপুরি এতে নিবদ্ধ হয়ে পড়ে।