রোজ ৫০ হাজার ,তবুও আগস্টে সিনেমা চালুর চেষ্টা ?

0
7

Last Updated on by

পার্থ মুখোপাধ্যায়

কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের তরফে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকদের দেওয়া পরামর্শে জানানো হয়েছে অগস্ট মাস থেকে সারা দেশের সিনেমা হল খোলার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের সচিব অমিত খারের সঙ্গে সিআইআই মিডিয়া কমিটির একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়েছিল। সেখানেই এই বিষয়ে আলোচনা করা হয়। তবে তিনি এও জানিয়েছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সচিব অজয় ভল্লা।

অমিত খারে জানিয়েছেন তাঁর পরামর্শ মতো ১ অগস্ট থেকে ৩১ অগস্টের মধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সিনেমা হলগুলি খোলার অনুমতি দেওয়া যায়। তবে সিনেমা হল থেকে যাতে করোনা সংক্রমণ ছড়াতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে প্রথম সারিতে দুই দর্শকের মধ্যে একটি করে আসন ফাঁকা রাখার এবং তার ঠিক পিছনের সারির পুরোটাই ফাঁকা রাখতে বলা হয়েছে। এই নিয়ম মেনেই পুরো হলের সিটিং অ্যারেঞ্জমেন্ট সাজাতে বলা হয়েছে হল কর্তৃপক্ষকে। তবে এই পরামর্শ সম্পর্কে এখনও কোনও মন্তব্য করেনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের সচিব অমিত খারের সঙ্গে বৈঠকে যে সব হল মালিকরা উপস্থিত ছিলেন, তাঁরা অবশ্য এমন নির্দেশিকা মানতে নারাজ। তাঁদের দাবি আসন সাজানোর এই ফর্মুলা একেবারেই মানা যায় না। তাঁদের যুক্তি, মোট আয়তনের মাত্র ২৫ শতাংশ দর্শক দিয়ে হল চালু রাখায় যা ক্ষতি হবে তা বর্তমান পরিস্থিতির চেয়েও খারাপ। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন মিডিয়া হাউস এবং টিভি চ্যানেলের সিইও, ওটিটি প্ল্যাটফর্মের কর্ণধাররা এবং সিআইআই মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান।

শনিবার সকালে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুসারে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৮ হাজার ৯১৬ জন নতুন করে সংক্রমিত হয়েছেন। এই বৃদ্ধির জেরে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা হয়েছে ১৩ লক্ষ ৩৬ হাজার ৮৬১। ফলে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৩ লক্ষ ৩৬ হাজার ৮৬১ জন। আক্রান্তের পাশাপাশি সংক্রমণের হারও ঊর্ধ্বমুখী। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সংক্রমণের হার ১১.৬২ শতাংশ। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪ লক্ষ ৫৬ হাজার ৭১ জন রোগী। প্রতি দিন যে সংখ্যক মানুষের পরীক্ষা হচ্ছে, তার মধ্যে যত শতাংশের কোভিড রিপোর্ট পজিটিভ আসছে। শনিবার দেশে মৃতের সংখ্যা ৩১ হাজার পা়র করেছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুসারে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার জেরে মৃত্যু হয়েছে ৭৫৭ জনের। এ নিয়ে দেশে মোট ৩১ হাজার ৩৫৮ জনের প্রাণ কাড়ল করোনাভাইরাস। এর মধ্যে মহারাষ্ট্রেই মারা গিয়েছেন ১৩ হাজার ১৩২ জন। মৃত্যুর তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দিল্লি। সেখানে মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ৭৭৭ জনের। তৃতীয় স্থানে রয়েছে তামিলনাডু। সেখানে মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ৩২০ জনের। গুজরাতে ২ হাজার ২৭৮ জন প্রাণ হারিয়েছে বলে জানা গিয়েছ। গত কয়েক দিন ধরে পশ্চিমবঙ্গে রোজ দু’হাজারেরও বেশি জন কোভিডে আক্রান্ত হচ্ছেন। এ রাজ্যের মোট আক্রান্তের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে ২ হাজার ২১৬ জন নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে মোট আক্রান্ত হলেন ৫৩ হাজার ৯৭৩ জন।

করোনা প্রতিরোধে হার্ড ইমিউনিটি’র তত্ত্ব নিয়ে এবার প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান গবেষক ডঃ সৌম্যা স্বামীনাথন। তাঁর মতে করোনার মতো রোগের হার্ড ইমিউনিটি অর্জন করা সহজ নয়। সেজন্য অন্তত ৫০-৬০ শতাংশ মানুষের শরীরে এর অ্যান্টিবডি প্রয়োজন।যা প্রাকৃতিক উপায়ে অর্জন করতে হলে আরও বহু মানুষকে এই রোগে আক্রান্ত হতে হবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বহু মানুষের মৃত্যুও হবে। সোশ্যাল মিডিয়ার এক অনুষ্ঠানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান গবেষক বলেছেন, হার্ড ইমিউনিটি, অর্থাৎ গোষ্ঠী অনাক্রম্যতা অর্জন করতে এখনও বহু সময় লাগবে।কিন্তু এর থেকে অনেক সহজ হবে টিকা আবিষ্কার করা। যাতে মানুষ অসুস্থ না হয়,কারও মৃত্যু না হয়। কারণ, প্রাকৃতিক উপায়ে হার্ড ইমিউনিটি অর্জন করতে হলে করোনা সংক্রমণের আরও একাধিক পর্যায় আসতে হবে। আরও বহু মানুষকে সংক্রমিত হতে হবে।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে আরও বহু মানুষের প্রাণও যাবে।গবেষকদের একাংশের মতে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ এভাবে বাড়তে থাকলে একটা সময় বহু মানুষের শরীরে এর অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে যাবে। যার ফলে করোনা সংক্রমণের শৃঙ্খল ভেঙে যাবে এবং সংক্রমণ নিজে থেকেই নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।এই পর্যায়কেই বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ,হার্ড ইমিউনিটি। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান গবেষক ডঃ সৌম্যা স্বামীনাথন বলছেন, এই হার্ড ইমিউনিটি অর্জন সহজ নয়। কারণ, যে দেশগুলিতে করোনা প্রচুর পরিমানে ছড়িয়েছে সেখানেও খুব বেশি হলে ২০ শতাংশ মানুষের শরীরে এর অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। বাকি বেশিরভাগ দেশেই সংখ্যাটা ৫-১০ শতাংশ। তিনি বলছেন, হার্ড ইমিউনিটির ধারেকাছে যেতে হলে আরও অন্তত ১ বছর সময় লাগবে।

এর পরই প্রশ্ন উঠতে বাধ্য কোন দেশে বাস করছি আমরা ?রোজ আক্রান্ত ৫০ হাজার, মৃত্যু ৮০০ -র কাছাকাছি।হার্ড ইমিউনিটি -র অপেক্ষায় বসে থেকে মৃত্যুর অপেক্ষায় থাকবে নাকি ভারতবাসী? তা না হলে, সিনেমা হল বা মল গুলো খোলার এতো উদ্যোগ কেন ? দেশের মানুষ কি গিনিপিগ নাকি? নাকি আরও লক্ষ লক্ষ মৃত্যু বা লাশ গোনার অপেক্ষায় আমরা ?