অতিরিক্ত ব্যায়ামে হৃদরোগের ঝুঁকি 

0
118
ছবি  সৌজন্যে : রিপ্রেসেন্টেশনাল 

বর্তমান সময়ে চিকিৎসকরা বারবার সতর্ক করছেন, স্থবির জীবনযাত্রা স্বাস্থ্যহানির অন্যতম কারণ। সারা দিন বসে কাজ করলে ওজন বাড়ে, আর ওজন বাড়লেই বাড়ে স্থূলতা।

যা ডেকে আনে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের রোগের মতো ভয়ংকর সব অসুখ। এই তথ্য জানার পর অনেকেই হঠাৎ করেই হয়ে উঠছেন,ফিটনেস ফ্রিক।যিনি আগে চলাফেরায়ও অনীহা দেখাতেন, তিনিই হঠাৎ করে দৌড়াতে শুরু করছেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটাচ্ছেন জিমে। আর এই হঠাৎ ব্যায়াম থেকেই ঘটছে বিপদ। ওদিকে সম্প্রতি নিয়মিত শোনা যাচ্ছে, মর্নিং ওয়াক করতে করতে, জিমে ব্যায়াম করার সময় বা খেলার মাঠে হঠাৎ মৃত্যু। বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই হয় হার্ট অ্যাটাক বা সাডেন কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে।চিকিৎসকদের মতে, শরীরচর্চা করতে গিয়ে যেসব হঠাৎ মৃত্যু ঘটছে, তার প্রায় ৯০% ক্ষেত্রেই দায়ী হৃদরোগ। বাকি কয়েকটি ক্ষেত্রে কারণ হতে পারে-ব্রেন অ্যানিউরিজমের রাপচার, স্ট্রোক অথবা খিঁচুনি। তবে,বয়সভেদে হৃদরোগের কারণ ভিন্ন হতে পারে। যেমন ৪০ বছরের কম বয়সে ,হঠাৎ মৃত্যুর মূল কারণ অনেক সময় হার্টের ইলেকট্রিক্যাল ডিসটার্বেন্স, যা আগে থেকে ধরা পড়ে না।এ ছাড়া হাইপারট্রফিক কার্ডিওমায়োপ্যাথি নামক জন্মগত হার্টের সমস্যাও অনেক সময় থেকে যায় অজানা।ওদিকে ৪০ বছরের বেশি বয়সে,সাধারণত করোনারি আর্টারি ডিজিজ বা,হৃদধমনিতে ব্লক দায়ী হয়। বাইরে থেকে একদম সুস্থ মনে হলেও, কারো হার্টে কোনো ধমনিতে জমে থাকতে পারে চুপচাপ ব্লক। অতিরিক্ত ব্যায়াম বা মানসিক চাপের সময় সেটি ফেটে গিয়ে হার্ট অ্যাটাক ঘটাতে পারে। তাই,জিমে যাওয়ার আগে বা হঠাৎ দৌড়ঝাঁপ শুরু করার আগে একবার ডাক্তার দেখিয়ে নিন। কিছু পরীক্ষার মাধ্যমে হার্টের স্বাস্থ্য সম্পর্কে আগেভাগেই জানা যায়, যেমন,ইসিজি, ইকো, ব্লাড প্রেশার, থাইরয়েড টেস্ট, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল টেস্ট। পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস থাকলে থাকুন দ্বিগুণ সতর্ক। অল্প বয়সে টাক পড়া, চুল পাকাও হতে পারে ভবিষ্যতের ঝুঁকির ইঙ্গিত।স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস থাকলে শারীরিক পরিশ্রমের ধরন বেছে নিন ডাক্তারি পরামর্শ নিয়ে। এখন প্রশ্ন হলো,ব্যায়াম করবেন কিভাবে ? সাধারণতঃ বলা হয় হালকা হাঁটা বা যোগব্যায়াম যেকোনো বয়সেই উপকারী। তবে কেউ যদি ৩০ বা ৪০ বছর বয়সে হঠাৎ করে জিমে যোগ দিতে চান, তাহলে অবশ্যই আগে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। একেবারে শুরুতেই অতিরিক্ত পরিশ্রম নয়।

শরীরকে সময় দিন ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হতে।বিজ্ঞাপনের প্রলোভন বা বন্ধুর উৎসাহে নয়, নিজের শরীর বুঝে সিদ্ধান্ত নিন।