
বর্ষার সিজনে গরম কমলেও অনেক বাড়িতে বা অফিসে এসি চলছেই। কিন্তু, দীর্ঘক্ষণ এসির হাওয়ার মধ্যে থাকলে, তা থেকে চোখের একাধিক ক্ষতি হতে পারে।
আসলে,এসির মধ্যে বেশিক্ষণ থাকলে অনেকের ড্রাই আইজ-এর সমস্যা বাড়তে পারে।এর মানে হলো চোখের জল শুকিয়ে যাওয়া। ফলে চোখে চুলকানি শুরু হয়।এসিতে ঘরের বাতাসের আর্দ্রতা কমে যায় বলে চোখে অ্যালার্জি হতে পারে। যারা কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করেন,তাদের ক্ষেত্রে সমস্যা আরো বাড়তে পারে।ড্রাই আইজের সমস্যা বাড়লে তা থেকে কর্নিয়ার ওপরের স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।অন্যদিকে,এসিতে দীর্ঘক্ষণ থাকলে ত্বক, চুল, মুখের ভেতরের অংশ এবং চোখের আর্দ্রতা কমতে শুরু করে।এই শুষ্কতার ফলে চোখের মিউকাস মেনব্রেন প্রভাবিত হয়। যার কারণে চোখে যেকোনো সংক্রমণের আশঙ্কা বেড়ে যায়।তাই বেশিক্ষণ এসিতে থাকলে চোখ জ্বালা করতে পারে, লাল হয়ে যেতে পারে।এমনকি চোখে ব্যথাও হতে পারে। পাশাপাশি বেশিক্ষণ এসিতে থাকলে অনেক সময় দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে আসে। কারণ এসি চোখের জল শুকিয়ে দেয়। তার ফলে স্পষ্টভাবে দেখা ব্যক্তির পক্ষে কষ্টকর হয়ে উঠতে পারে।এ ক্ষেত্রে এসিতে থাকার সময়,২০-২০-২০ নীতি অনুসরণ করা যায়। অর্থাৎ, ২০ ফুট দূরত্বে কোনো বস্তুকে ২০ সেকেন্ড ধরে দেখা। ২০ মিনিট পর পর এটি করতে হবে।এছাড়া বাড়িতে কোনো হিমিউডিফায়ার ব্যবহার করলে তা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে আর্দ্রতা বজায় রাখবে। তার ফলে চোখের জল শুকিয়ে যাবে না। সাধারণতঃ বলা হয়,সুষম আহার এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করলে চোখের স্বাস্থ্য ভালো থাকে।পাশাপাশি ডিজিটাল স্ত্রিনের দিকে তাকালে চোখের পলক পড়ার গতি এবং সংখ্যা খেয়াল রাখা উচিত। সব মিলিয়ে এসির ব্যবহার কমানো সম্ভব না হলে সে ক্ষেত্রে চোখে টিয়ার ড্রপ দেওয়া যেতে পারে।
এ ছাড়া এসিতে থাকার সময়ে চোখ জ্বালা করলে চোখে জলের ঝাপটা দেওয়া উচিত। পাশাপাশি বছরে অন্তত এক বার চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত।
