
আয়ুর্বেদ ও আধুনিক গবেষণা সমানভাবে প্রশংসিত হয়ে আসছে মেথি। রান্নায় মেথির বীজ সুগন্ধ ও স্বাদের জন্য ব্যবহৃত হলেও এর স্বাস্থ্যগত উপকারিতা আরো বিস্তৃত। বিশেষ করে ওজন কমানো, হজমশক্তি উন্নত করা, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ এবং ত্বক ও চুলের যত্নে মেথির জল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ ছাড়া আর কী কী উপকারে আসে এই জল?
মেথিবীজে থাকা দ্রবণীয় ফাইবার খিদে কমায় ও দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা অনুভূতি দেয়।এতে থাকা ল্যাকটোমেন বিপাক বাড়িয়ে চর্বি পোড়াতে সাহায্য করে।পাশাপাশি প্রো-বায়োটিকের মতো কাজ করে মেথি, যা অন্ত্রে ভালো ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি করে। এতে কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস ও বদহজম কমে। অন্যদিকে,মেথির অ্যালকালয়েড ও ফ্ল্যাভোনয়েড খারাপ কোলেস্টেরল কমায় এবং পটাসিয়াম সোডিয়ামের প্রভাব কমিয়ে রক্তচাপ ঠিক রাখে।কার্বোহাইড্রেটের শোষণ ধীর করে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখে, যা টাইপ-১ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসে উপকারী।কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, মেথি পেশির শক্তি ও টেস্টোস্টেরন বাড়াতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে শরীরের চর্বি কমায় এবং ব্যায়ামের কর্মক্ষমতা উন্নত করে। মেথি মৃত ত্বক কোষ মেরামত করে, নতুন কোষ তৈরি করে এবং সূক্ষ্ম রেখা কমায়।সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মির প্রভাবও কমাতে পারে এই মসলা। এর বাইরে মেথির প্রোটিন ও নিকোটিনিক অ্যাসিড চুল মজবুত করে, খুশকি ও চুল পড়া কমায় এবং চুলের উজ্জ্বলতা বাড়ায়।
এক চা চামচ মেথি বীজ এক কাপ জলেতে সারা রাত ভিজিয়ে রাখুন। সকালে মাঝারি আঁচে হালকা গরম করে ছেঁকে নিন। স্বাদ বাড়াতে চাইলে তাজা লেবুর রস মেশাতে পারেন।চাইলে বীজ শুকিয়ে ভেজে গুঁড়ো করে জলেতে মিশিয়েও পান করতে পারেন।নিয়মিত মেথির জল পান করলে শরীরের ভেতর ও বাহির,দু’ দিকেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
