
হেঁশেলে মেথির ব্যবহার দীর্ঘকালীন। ঠিক তেমনই শরীর ঠান্ডা করতে হোক বা রক্তে শর্করা বশে রাখতে, অনেকেই দিন শুরু করেন মেথি ভেজানো জল দিয়ে।
কিন্তু মেথি কি সত্যিই গুণের? তবে জলে ভিজিয়ে খাওয়াই কি ভাল, না কি অন্য উপায়েও এই বীজ খাওয়া যায়? বলা হয়,মেথিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ডায়েটরি ফাইবার এবং প্রোটিন।১০০ গ্রাম মেথিতে ২৩ গ্রাম প্রোটিন, ২৫ গ্রাম ফাইবার। এতে রয়েছে ভিটামিন, বিভিন্ন ধরনের স্টেরল, ফাইটোস্টেরল নামক যৌগ এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। ওমেগা থ্রি এবং ওমেগা সিক্স ফ্যাটি অ্যাসিডের ভারসাম্য এতে দেখা যায়। সুতরাং শরীর ভাল রাখতে মেথি বীজ একাই একশো।এখন প্রশ্ন হল, মেথি কি শুধু জলে ভিজিয়ে খেলেই উপকার? অনেকে মেথি দানা ঘিয়ে ভেজেও দুধ দিয়ে খান। আসলে এ ভাবে মেথি খাওয়ারও নানা দিক এবং উপযোগিতা রয়েছে। এতে রয়েছে ফাইবার। মেথি দানা ঘিয়ে নাড়াচাড়া করে নিলে,গন্ধও যেমন ভাল হয়, তেমনই তা হজমে সহায়ক হয়।ঘিয়ে নেড়েচেড়ে নেওয়া মেথিদানা হজমকারক উৎসচকের নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয়।এটি রক্তে শর্করার মাত্রাও বশে রাখে।ঘিয়ে রয়েছে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, যা কিছু কিছু ভিটামিন এবং খনিজ শোষণে সাহায্য করে। দুধের ক্যালশিয়ামও ভাল ভাবে শোষিত হতে পারে। মেথিতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমিয়ে হার্টের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সাহায্য করে এটি। ওজন বশে রাখতেও মেথি উপকারী।এখন বিষয় হল,দুধে ভিজিয়ে ঘিয়ে ভাজা মেথিদানা খেলে কী হয়? দেখা যায়,মেথিতে রয়েছে সলিউবল ফাইবার, যা অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভাল রাখে। দুধ পাকস্থলীতে একটি পাতলা আস্তরণ তৈরি করে, যা প্রদাহ বা পেটজ্বালা কমায়।তবে উপকারী হলেও ল্যাক্টোজ় ইনটলার্যান্ট হলে দুধ খাওয়া চলবে না। দুধে থাকে ল্যাক্টোজ় নামক এক প্রকারের শর্করা। এই শর্করা হজম করার জন্য একটি বিশেষ ধরনের উৎসেচকের প্রয়োজন হয়। কিছু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এই উৎসেচক উৎপাদনের হার খুবই কম। এই ধরনের লোকেরা দুধ খেলে পেটের সমস্যা হতে পারে। তবে হজমের সমস্যা থাকলে মেথি ঘিয়ে ভেজে খাওয়া ভাল। কারণ এটি সহজে হজম হয় এবং পুষ্টির মাত্রাও বাড়ে।
তবে দুধ সহ্য না হলে ঘিয়ে ভাজা মেথি গুঁড়িয়ে স্যুপ, খাবারে মিশিয়ে নিতে পারেন। কোলেস্টেরল থেকে রক্তে শর্করার বশে রাখতেই শুধু নয়, কোষ্ঠকাঠিন্য নির্মূলেও তা সহায়ক। ওজন কমাতেও মেথি সাহায্য করে।





