সারের সংকট, মূত্রের দিকে ঝুঁকছে কৃষকরা

0
50
ছবি সৌজন্যে :  রিপ্রেসেন্টেশনাল 

ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থার কারণে বিশ্বজুড়ে রাসায়নিক সারের সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে। এতে বিকল্প উপায় খুঁজতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। কেউ ব্যবহার করছেন মুরগির বিষ্ঠা, কেউ গবাদিপশুর বর্জ্য, আবার কেউ মানব মূত্র থেকে তৈরি জৈব উপাদান দিয়ে ফসল বাঁচানোর চেষ্টা করছেন।

বিশ্বে ব্যবহৃত ইউরিয়া সারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই আসে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে। কিন্তু ইরান যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ইউরিয়ার দাম কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এতে আসন্ন চাষ মৌসুম নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে কৃষকদের মধ্যে। ইংল্যান্ডের ইয়র্কশায়ারের কৃষক মিলস বলেছেন, গম, বার্লি ও ওটের খামার টিকিয়ে রাখতে তিনি বিকল্প সার খুঁজতে গ্রামাঞ্চলে ঘুরছেন। শেষ পর্যন্ত এক পরিচিত ব্যক্তির পোলট্রি খামার থেকে মুরগির বিষ্ঠা সংগ্রহ করতে হয়েছে তাকে। ফ্রান্সভিত্তিক স্টার্টআপ টুপি অর্গানিকস স্কুল ও বিভিন্ন উৎসব থেকে সংগৃহীত মানব মূত্র ব্যবহার করে উদ্ভিদের বৃদ্ধিসহায়ক ব্যাকটেরিয়া উৎপাদন করছে।

প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা ফ্রাঁসোয়া জেরার বলেছেন, ফেব্রুয়ারির পর থেকে বিক্রি প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে। তাঁর কথায়,আমাদের কাছে মূত্রের অভাব নেই। সব জায়গাতেই পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, হরমুজ প্রণালিতে আমেরিকা ও ইরানের পাল্টাপাল্টি অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী হলে খাদ্য উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। জাতিসংঘ আশঙ্কা করছে, এতে আরও সাড়ে চার কোটি মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে পড়তে পারে। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর সারমূল্য প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।