
অনেক শিশুর একটি অসুখ হয়, যার নাম সিস্টেমিক লুপাস এরিথেম্যাটোসাস বা,এসএলই। এটিও অটোইমিউন ডিজ়অর্ডার।
শরীরে অস্বাভাবিক প্রোটিন তৈরি হয়, যা সুস্থ কোষগুলির ক্ষতি করতে থাকে। এই এসএলই রোগটিও কিন্তু জুভেনাইল আর্থ্রাইটিসের অন্যতম কারণ। এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে, শিশুদের বাত আরও নানা রোগের সংমিশ্রণে ঘটে। আর তা নির্ণয় করা এবং সারানোও খুব কঠিন। অসুখের শুরুতে ১০২ ডিগ্রি বা তারও বেশি জ্বর হয়। তিন দিন বা তারও বেশি সময় ধরে জ্বর চলতে থাকে। ঠোঁট ও চোখ লাল হয়ে যায়। শরীরের গ্রন্থিগুলি ফুলে ওঠে।তারপর মাল্টিপল সিস্টেম ইনফ্ল্যামেটরি সিনড্রোম দেখা দেয়।যার থেকে শরীরের নানা অঙ্গের ক্ষতি হতে থাকে।ওদিকে,জুভেনাইল আর্থ্রাইটিসের ক্ষেত্রে সাইনোভিয়াল তরলের ক্ষরণ বেশি হতে থাকে। শরীরের প্রতিটি অস্থিসন্ধি বা জয়েন্টে আছে এই সাইনোভিয়াল ফ্লুইড।এর কাজ হল অস্থিসন্ধির প্রধান উপাদান কার্টিলেজের পুষ্টি জোগানো।এই তরলের ক্ষরণে যখন তারতম্য হয়, তখন অস্থিসন্ধিতে প্রদাহ শুরু হয়। সাইনোভিয়াল ফ্লুইডের তারতম্য নানা কারণে হতে পারে, যার মধ্যে একটি কারণ হল ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ।বলা হচ্ছে,স্ট্যাফাইলোকক্কাস অরিয়াস নামে এক ধরনের ব্যাক্টেরিয়া অস্থিসন্ধিতে সংক্রমণ ঘটায়। এর থেকে সেপটিক আর্থ্রাইটিস হতে পারে। অস্থিসন্ধি লাল হয়ে ফুলে ওঠে। তখন উঠতে, বসতে, হাঁটাচলা করতে সমস্যা হয়। হাত-পায়ে যন্ত্রণা হতে থাকে। অন্যদিকে আর্থ্রাইটিসের অনেক ধরন আছে এবং তাদের উপসর্গগুলিও আলাদা, যেমন,অলিগোআর্থ্রাইটিসের ক্ষেত্রে হাঁটু, কনুই, পায়ের গোড়ালিতে ব্যথা হয়। শরীরে সি-রিঅ্যাকটিভ প্রোটিনের পরিমাণ বেড়ে যায়,রক্তচাপ বাড়ে, ফলে সারা শরীরে ব্যথা হতে থাকে।
চোখে তীব্র প্রদাহ হতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে এই ধরনের আর্থ্রাইটিসই বেশি দেখা যায়।




