এমবাপ্পের গোলে কোয়ার্টারে ফ্রান্স

0
36
ছবি সৌজন্যে : এক্স

শেষ ৩২-এর ম্যাচে প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে যে বিষাদের গল্প উপহার দিয়েছিল, ফিলাডেলফিয়ার মাঠে ফ্রান্সের বিপক্ষেও ঠিক একই ছক কষে নেমেছিল প্যারাগুয়ে।

দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের রুখে দিতে ডিফেন্সে রীতিমতো বাস পার্ক করে ৫-৪-১ ফর্মেশন সাজিয়েছিলেন লাতিন দলটির কোচ।ফরাসিদের ভয়ংকর আক্রমণভাগকে এক ঘণ্টারও বেশি সময় বোতলবন্দী করে রেখেছিল তারা।কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। দ্বিতীয়ার্ধে বক্সের ভেতর এক মুহূর্তের অসতর্কতা আর আত্মঘাতী ভুলের চড়া মাশুল দিতে হলো প্যারাগুয়েকে। তাদের সেই দুর্ভেদ্য দেওয়াল টপকে ঘামঝরানো জয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখল দিদিয়ের দেশমের ফ্রান্স। ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোর রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে,লে ব্লু’রা। প্রথমার্ধের ডেডলক ভেঙে ৭০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ম্যাচের একমাত্র ও জয়সূচক গোলটি করেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। বৃহস্পতিবার রাতে বোস্টন স্টেডিয়ামে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে জায়ান্ট কিলার মরক্কো, যারা সহ-আয়োজক কানাডাকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে শেষ আট নিশ্চিত করেছে।ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল নিজেদের পায়ে রাখলেও প্যারাগুয়ের জমাট রক্ষণের সামনে প্রথমার্ধে বিন্দুমাত্র সুবিধা করতে পারেনি এমবাপ্পে ব্রিগেড।ম্যাচের প্রথম ২০ মিনিটে প্যারাগুয়ের গোলমুখে একটি শটও নিতে পারেনি ফরাসিরা। ১৯৬৬ সালের পর এই নিয়ে মাত্র তৃতীয়বার বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে এত দেরিতে প্রথম শটের দেখা পেল ফ্রান্স।৩১ মিনিটে এমবাপ্পের হেড মিস আর ওসমানের লক্ষ্যভ্রষ্ট শটে হতাশ হতে হয় দেশমকে।বিরতির পর ম্যাচের ৫২ মিনিটে পরপর দুটি সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করে ফ্রান্স। প্রথমে মাইক মাইনানের লম্বা পাস ধরে ডিফেন্ডারদের গতিতে পরাস্ত করে ওয়ান-অন-ওয়ান পজিশনে চলে যান এমবাপ্পে, কিন্তু শেষ মুহূর্তে বলের নিয়ন্ত্রণ হারালে প্যারাগুয়ে ডিফেন্ডার কাসেরেস কর্নারের বিনিময়ে বল ক্লিয়ার করেন। সেই কর্নার থেকে উসমান দেম্বেলের শট কাঁপায় পাশের জাল। এর দুই মিনিট পর কোনের এক দূরপাল্লার রকেট গতির শট লাফিয়ে উঠে জালের ওপর দিয়ে পার করে দেন প্যারাগুয়ের গোলকিপার অরল্যান্ডো গিল।তবে ম্যাচের আসল মোড় ঘোরে ৬৬ মিনিটে। প্যারাগুয়ের পেনাল্টি এরিয়ায় বদলি নামা ফরাসি ফরোয়ার্ড দিজিরে দুয়েকে ফাউল করে বসেন দিয়োগো গোমেজ। শুরুতে রেফারি এড়িয়ে গেলেও ভিএআর রিভিউ দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজাতে বাধ্য হন।

৭০ মিনিটে স্পট-কিক থেকে গোলরক্ষককে সম্পূর্ণ উল্টো দিকে পাঠিয়ে ঠান্ডা মাথার নিখুঁত ও নিচু শটে ফ্রান্সকে উল্লাসে ভাসান কিলিয়ান এমবাপ্পে।